কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা ও পৌর যুবদলের দুই নেতাকে প্রাথমিক পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করেছে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি।
সংগঠনের সহযোদ্ধাকে অন্যায়ভাবে রক্তাক্ত করা, পেশিশক্তি প্রদর্শনসহ নানা অনাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বহিষ্কৃত দুই নেতা হলেন নাঙ্গলকোট উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল মমিন এবং নাঙ্গলকোট পৌর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুর আহমদ।
কুমিল্লায় দুই যুবদল নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পেশিশক্তি প্রদর্শন করে সংগঠনের সহযোদ্ধাকে অন্যায়ভাবে রক্তাক্ত করাসহ নানা অনাচারে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আবদুল মমিন ও নুর আহমদকে প্রাথমিক পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত নেতাদের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়দায়িত্ব দল নেবে না। যুবদলের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের তাঁদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের সিদ্ধান্তে এ বহিষ্কার কার্যকর হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। সম্প্রতি নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া হাইস্কুল গেট এলাকায় বিএনপি, ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের একটি প্রতিবাদ মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী মাহফুজুর রহমান, আমীর হামজা মুন্না ও শহীদসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।
আহত ব্যক্তিদের ভাষ্য, ঢালুয়া বাইপাস সড়ক এলাকায় ছাত্রদল নেতা মাহফুজুর রহমান, আমীর হামজা মুন্না ও শহীদের নেতৃত্বে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। মিছিল শেষ হওয়ার আগেই উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল মমিন, ছাত্রদল নেতা আলী হোসেন টিপু ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আবদুর রহিম সুজনের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিলে হামলা চালায়। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন। পরে আহত ব্যক্তিদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সহ নাঙ্গলকোটের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আহত নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার অনুসারী।
এ ঘটনায় উপজেলার সাতবাড়ীয়া গ্রামের এরফান উদ্দিন বাদী হয়ে বহিষ্কৃত যুবদল নেতা আবদুল মমিনকে প্রধান ও নুর আহম্মদে ২ নং আসামী করে কুমিল্লা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৮ নং আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। তাছাড়া সিজিয়ারা গ্রামের আমির হামজা বাদী হয়েও আবদুল মমিন, নুর আহাম্মদ সহ কয়েকজনকে বিবাদী করে একই আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।,,,,
হামলার ঘটনার ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এতে স্হানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র নিন্দা ও প্রকাশ করে। বিষয়টি যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবন্দের দৃষ্টিগোচরে আসলে নাঙ্গলকোট উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আবদুল মমিন ও নাঙ্গলকোট পৌর যুবদলের সাবেক যুগ্ন আহ্বায়ক নুর আহমেদকে প্রাথমিক সদস্য পদ সহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে দলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়।
এদিকে যুবদলের দুই বিতক্তিত নেতার বহিষ্কার আদেশের খবরে উপজেলার সর্বত্র আনন্দের জোয়ার বইছে। অনেকে এটাকে যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত বলে কেন্দ্রীয় নেতৃবন্দকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন।