(গজরাপাড়া-ইসলামপুর সড়ক)
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর মনোহরগঞ্জ উপজেলার মৈশাতুয়া ইউনিয়নের গজরাপাড় গ্রামে সড়ক উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও সেই সড়কটির নির্মাণকাজ চলছে ধীরগতিতে। দীর্ঘ বছর ভোগান্তির পর গজরাপাড়া থেকে ইসলামপুর পযন্ত দেড় বছর আগে সড়কটি পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাজের ধীরগতিতে হতাশ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।এ গ্রামে প্রায় চার থেকে সাড়ে চার হাজার মানুষের বসবাস।গ্রামবাসীর একমাত্র ভোগান্তি প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়ক।বিকল্প সড়ক ব্যবস্থা না থাকায় কাঁচা সড়কটি গ্রামবাসীর জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।
জানা যায়,গজরাপাড়া,নিশ্চিন্তপুর, ইসলামপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম এ সড়ক।এর পাশে রয়েছে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান-মোস্তফা স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাসহ ৮ থেকে ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। রয়েছে সরকারি গুচ্ছ গ্রাম,এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছাড়াও ছোট-বড় ব্যবসায়ী,চাকরিজীবী ও কৃষকেরা প্রতিদিন এ সড়ক ব্যবহার করেন।
স্বাধীনতার পর থেকেই এ এলাকার মানুষ একটি ভালো সড়কের জন্য অপেক্ষা করছেন।অবশেষে সড়কটি পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাজের ধীরগতির কারণে তাঁদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হচ্ছে না।বর্ষার আগে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বালু ফেলে রাখায় চলাচলে আরও ভোগান্তি বেড়েছে। বৃষ্টিতে সড়কটি কাদায় একাকার হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া, কৃষকদের ফসল পরিবহন এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ,স্বাধীনতার পর থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এ সড়কের উন্নয়নে সুদৃষ্টি দেয়নি। তবে দীর্ঘ বছর পর ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারিতে ইসলামপুর থেকে খালপাড় হয়ে গজরাপাড়া পর্যন্ত প্রায় পৌনে দুই কিলোমিটার সড়কটি পাকাকরণের জন্য কাজ নেয় ঠিকাদার। কাজের ধীরগতির কারণে যাতায়াতের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।এছাড়া সড়কটির নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, যথাযথ তদারকির মাধ্যমে দ্রুত ও মানসম্মতভাবে সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ করা হোক।
স্বাধীনতার পরেও আমাদের গজরাপাড়া-ইসলামপুর গ্রামের কোন রাস্তার উন্নয়ন হয়নি বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও লাকসাম পৌরসভার ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মিরাজুল ইসলাম বাবু, তিনি বলেন,দীর্ঘ বছর দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে এখন সড়কটির নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকাবাসী। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই পথে যাতায়াত করে।এতে রোগীদের চিকিৎসা সেবায় চরম বিঘ্ন ঘটছে, এলাকাবাসীর দুর্ভোগ নিরসনে দ্রুততম সময়ে এই রাস্তা সংস্কারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে সড়কটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে।এতে কয়েক হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।আমি এমপি মহোদয় ও উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মদিনা কনস্ট্রাকশনক এর উপঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলম জানান,“বর্ষার কারণে কাজ শুরু করেও বন্ধ রাখতে হয়েছিল।বর্তমানে আবার কাজ শুরু হয়েছে।এখন সাব-বেইজের কাজ চলছে।আশা করছি, আগামী দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারব। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী দিয়েই কাজ করছি।”
এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী কামাল হোসেন বলেন, ইসলামপুর থেকে খালপাড় হয়ে গজরাপাড়া পর্যন্ত ১ হাজার ৬১৫ মিটার দীর্ঘ ও ১০ ফুট প্রশস্ত সড়কটি পাকা করতে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মদিনা কনস্ট্রাকশনকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। বর্ষার কারণে কিছুদিন কাজ বন্ধ ছিলো। এখন নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে কাজটি বন্ধ রাখা হবে।