ঢাকা   ০৮:৩৯:১৩ পিএম, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জের রামপুরে নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান, মজুদ প্রায় ৯৮ বিলিয়ন ঘনফুট পোশাক শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখতে কৌশলগত নেতৃত্ব তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির ১২ কেজির সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়ল ২২৩ টাকা মাগুরায় মধুমতী নদীতে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত  কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আবহাওয়ার আগাম বার্তা পাবেন কৃষকরা উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ  ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আমজাদ এন্টারপ্রাইজের কেমিক্যালের ড্রাম ব্যবসা, দূষণের ঝুঁকিতে কর্ণফুলী নদী, আতঙ্কে নোমান কলেজ রোডের বাসিন্দারা মাগুরায় নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত টঙ্গীর রাজনগরে জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ, মাফিজুরের গ্রেপ্তার দাবি ভুক্তভোগীদের

পোশাক শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৪ বার
  • ১০ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে গঠিত মজুরি বোর্ড দ্রুত কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়া এবং সড়ক-মহাসড়কে অস্থিরতা সৃষ্টি না করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। গতকাল (রোববার) সকালে বোর্ড গঠন করা হয়েছে। আজই বোর্ডের প্রথম বৈঠক হতে পারতো, না হলেও খুব শিগগির বৈঠক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের দাবি ছিল দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠন করে তাদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা। এজন্য শ্রমমন্ত্রী মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের প্রতিনিধির নাম চেয়েছিলেন। মালিকপক্ষ নাম দিলেও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি চূড়ান্ত করতে কিছুটা সময় লেগেছে। পরশু (শনিবার) রাতে তাদের প্রতিনিধির নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর গতকালই মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এতে কোনো সময়ক্ষেপণ করা হয়নি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একই সঙ্গে মালিকপক্ষের বক্তব্য ও শিল্পের স্বার্থ বিবেচনায় রাখতে হবে, যেন উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত না হয়। তবে শ্রমিকদের স্বার্থ যেন বেশি সংরক্ষিত হয়, সে চেষ্টা সরকার করবে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিল্পবান্ধব ও শ্রমিকবান্ধব নীতি গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন।

শ্রমিকদের আন্দোলনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া থাকতে পারে এবং তারা আন্দোলনও করতে পারেন। তবে প্রাথমিকভাবে স্মারকলিপি দেওয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে দাবি জানাতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। মজুরি বোর্ডসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শ্রমিকদের দাবি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সবসময় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেন আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরানো হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে সড়কে সহিংস আন্দোলন করা ব্যক্তিদের সঙ্গে শ্রমিক ও শ্রমিকনেতাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। গত কয়েক দিনের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কিছু মুখোশধারী ব্যক্তির উপস্থিতি দেখা গেছে। তাদের কর্মকাণ্ডে শ্রমিকদের ক্ষতি ও স্বার্থহানির আশঙ্কা রয়েছে।

আন্দোলনের ঘটনায় গ্রেফতার শ্রমিকদের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া শ্রমিকনেতা ও শ্রমিকদের আইনিভাবে মুক্তির বিষয়টি সরকার দেখবে। এছাড়া আন্দোলন ও সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের বিষয়েও যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের আহ্বান থাকবে, আমরা এখন থেকে শিল্পে ফিরে যাবো, উৎপাদনে ফিরে যাবো, ঘরে ফিরে যাবো, কর্মস্থলে ফিরে যাবো। মজুরি বোর্ড গঠনের পরও যারা ইচ্ছাকৃতভাবে সড়ক-মহাসড়কে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে, তারা অবশ্যই শ্রমিকের বন্ধু হতে পারে না।

তিনি শ্রমিকনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। মজুরি বোর্ডে শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। সেখানে শ্রমিকদের দাবি তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিল্প পরিচালিত হয়। মালিকের পুঁজি ও শ্রমিকের শ্রমের সমন্বয়েই শিল্প গড়ে ওঠে, অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয় এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ে। তাই শিল্প চালু রাখা, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং দেশের রপ্তানি অব্যাহত রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশে বেকারত্বের হার যেন আরও না বাড়ে, সেজন্য মিল-কারখানা চালু রাখা জরুরি। শিল্পের উৎপাদনশীলতা ও অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে শ্রমিক, মালিক ও সরকারকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, শ্রমিক নেতা ও সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

শ্রমিক নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ তৃণমূল গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মির্জা আল শামীম, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তফা, বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি অরবিন্দু বেপারী বিন্দু, বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আকাশ আহম্মেদ বাবুল (মো. আকাশ আহমেদ), স্বাধীন গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাকিল হোসেন মোবারক (মো. শাকিল), জাতীয় তৃণমূল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আমীর হামজা খান, বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান তৌহিদুর রহমান, শ্রমিক দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, রেডিমেড গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি লাভলী ইয়াসমীন ও বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি জাকির হোসেন প্রমুখ।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকে শ্রমমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শ্রমিকনেতা ও সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা এবং পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি