ঢাকা   ০৫:৩৮:৩৪ পিএম, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
নকলায় আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত মাগুরায় ২ মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে  নিহত- ১, আহত -১ খাগড়াছড়িতে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন  মাগুরায় বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুন কুমিল্লায় বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার মাগুরার আলোচিত যুবদল নেতা শাকের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামীকে ৫ দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত চন্দনাইশে এলডিপি’র ২০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে অধ্যাপক ওমর ফারুক গরু চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু ঢাকা বোর্ডের সচিবকে কুমিল্লায় বদলি যোগদানে ছাত্রদলের হুঁশিয়ারি মাগুরায় জেলা প্রশাসক কতৃক উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত 

সংসার আর চলে না/এভাবে কী জীবন চলতে পারে?

মনিরুজ্জামান, বোরহানউদ্দিন ( ভোলা) সংবাদদাতাঃ
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২ আগস্ট, ২০২২
  • ৬২৪ বার
  • ৫ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:
ছবিঃ বোরহানউদ্দিন বাজারে হেটে হেটে বাদাম বিক্রি করছেন খালেক

আব্দুল খালেক। বাদাম বিক্রেতা। বাসা টবগী ইউনিয়নের মনিরাম বাজার। ঘুরে ঘুরে বাদাম,চাউল ভাজার সাথে তিষি ভাজা,ছোলা বাদাম বিক্রি করেন। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে বিক্রি। এতে ৪০০-৫০০ টাকা আয় করেন। ৫ বছর ধরে এ কাজ করছেন।বর্তমানে এটাকে পেশা ধরে এগিয়ে গেছেন। সংসারে তার পাঁচ সদস্য। ২ মেয়ে ও ছেলে।ছেলে ইয়ামিন ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। বসত ঘর ছাড়া কিছুই নেই তার। এ কাজ করে সংসার নামক যন্ত্রের ঘানি টানেন। সবার দেখভাল করলো, নিজেরটা দেখার সুযোগ নাই? কেমন চলছে দিনকাল। এমন প্রশ্নে বলেন,আর পারি না।সংসার আর চলছে না। তিনি বলেন,৩-৪ বছর আগেও তার এই আয়ে মোটামুটি সংসার চলতো। এখন সংসারে বেশ টানাপোড়ন।

আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের বেশ গরমিল। খরচের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না । খালেক বলেন, আগে ৩০০-৪০০ টাকাতে ও সংসার চলতো। এহন ৫০০ টাকাতেও চালাতে পারি না।প্রতিদিন জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। ডাল ভাত খাইয়া কোন রকম বাইচা আছি। কোরবানি ঈদ ছাড়া গরুর মাংস কিনে খেতে পারেনি।মাঝেমধ্যে সন্তানদের আবদার মিটাতে বয়লার মুরগী কিনতে হয়। বর্তমানে যার দাম বৃদ্ধি হয়ে ১৮০ টাকা হয়েছে। ডাল, আলু ভর্তা আর শাক তার পরিবারের নিত্যসঙ্গী।

মিলন চন্দ্র দাস সকাল ৯ টায় পৌর বাজারের ব্রিজের উপর জুতা সেলাইয়ের সরঞ্জাম নিয়ে বসেন। ২০/২৫ বছর যাবত এ কাজ করেন।তিনি বলেন, মানুষ আগের মতো আর জুতা সেলাই করেন না। প্রতিদিনের আয় ২০০-২৫০ টাকা। তিনি বলেন, এহন ভালো কিছু কিনে খাইতে পারি না। কোনোদিন ভালো আয় হইলে মাছ কিনতে পারি। নইলে পারি না। সপ্তাহে একদিন মাছ খাওয়া হয়। তিনি বলেন,লাল ডিমের হালে ৪০ টাকা।হাঁসের ডিমের হালি ৫৬ টাকা। মোডাডাল ৬৫ টাকা। ক্যামনে খামু। সব সময় ডাল, আলু দিয়া খাই।

মিলন-খালেক এর মতো নিম্ন আয়ের অসংখ্য মানুষ কষ্টে আছেন। নিম্ন আয়ের মানুষ ছাড়াও ভালো নেই নিম্নমধ্যবিত্ত কিংবা মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে তাদেরও খাদ্য তালিকাসহ জীবনযাপনের পদ্ধতিও কাটছাট করতে হচ্ছে। চাল, ডাল, মাছ, মাংস, ব্রয়লার মুরগি, শাক-সবজি, ফল, মসলা, ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী কিনতে বিপাকে পড়ছেন ক্রেতারা।
মোহাম্মদ নাছির। ছিলেন বই ব্যবসায়ী । করোনার তান্ডবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় জীবনের তাগিদে বনে যান মুদি ব্যবসায়ী। স্বল্প পুঁজিতে সুবিধা করতে পারছেন না। নাছির বলেন, জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কারণে এখন অনেক কিছুই খাওয়া কমিয়ে দিয়েছি। বাহিরে চলাচলে আগে যেখানে রিকশায় যেতাম সেখানে এখন পায়ে হেঁটে বা সাইকেলে চলাফেরা করি। সন্তানের জন্য বাসায় টিচার রাখতে পারছি না। এখন ওর আম্মুই যতটুকু পারে পড়ায়।
একটি বেসরকারি কলেজের বানিজ্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বলেন,যে বেতন পাই।তা দিয়ে মাসের ১৫ দিন চলতে পারি।এরপর আবার টানাটানি। এভাবে কীআর মানুষের জীবন চলতে পারে?

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি