1. nerobtuner@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  2. omarfarukbd12@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  3. info@shamolbangla.net : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
‘পাপিয়ার নির্যাতন মনে পড়লে ঘুম আসে না’ - দৈনিক শ্যামল বাংলা
শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৪২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
‘দৌড়ান সুস্থতার জন্য, এগিয়ে চলুন বিজয়ের পথে’—স্লোগানে রামগড়ে ম্যারাথনে অংশ নিলেন তিন শতাধিক দৌড়বিদ মাগুরায় লোডশেডিংয়ের গরম থেকে বাঁচতে মসজিদের ছাদে উঠে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মুয়াজ্জিনের মৃত্যু! রুপনগর প্রেসক্লাবের সদস্য মোঃ রুহুল আমিন এর মমতাময়ী মায়ের মৃত্যু প্রান্তিক শহরে উন্নত আল্ট্রাসাউন্ড প্রযুক্তি নিয়ে উইপ্রো জিই হেলথকেয়ারের ‘হেলথ এক্সপ্রেস’ চালু নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে মাগুরায় ১১দলীয় ঐক্য জোটের স্মারকলিপি প্রদান হাটহাজারী মাদরাসা ছাত্র আরিফুল ইসলামের আকস্মিক মৃত্যু : মাগফিরাত কামনায় জামেয়ার মহাপরিচালক আলেমগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণেই জুলাই আন্দোলন সফল হয় : আল্লামা শেখ আহমদ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে কোম্পানীগঞ্জে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত  কোম্পানীগঞ্জে জুলাই গনঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বিশেষ মোনাজাত  “স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণহত্যার বিচার করেন, জনগণ আপনাদের ছাড়বে না: সাক্কু

‘পাপিয়ার নির্যাতন মনে পড়লে ঘুম আসে না’

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২০
  • ৩৯৪ বার

মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার :
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আইয়ুব আলী। তার বয়স প্রায় ৭০ বছর; গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর পলাশ উপজেলায়। নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার মাধ্যমে আলোচিত যুব মহিলা লীগ নেত্রী শামিমা নূর পাপিয়ার সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। ব্যবসায় পার্টনারশিপের কথা বলে তার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নেন পাপিয়া।

কিন্তু তাকে পার্টনারশিপ দেওয়ার পরিবর্তে টাকা নেওয়ার কথাই অস্বীকার করেন তিনি। একপর্যায়ে তাকে কৌশলে আটকে রাখেন ‘টর্চার সেলে’। পাপিয়ার নির্দেশে সেখানে তার লোকজন তাকে নির্যাতন চালাত। পরে তিনি অন্ধ সেজে পালিয়ে আসেন। সে নির্যাতনের কথা ভুলতে পারেননি আইয়ুব আলী, মনে পড়লে আজও আঁতকে ওঠেন। আইয়ুব আলীর মতোই অনেক ভুক্তভোগী পাপিয়ার টর্চার সেলে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন; যারা পাপিয়া গ্রেপ্তার হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ দিচ্ছেন। তাদের সেব অভিযোগ আমলে নিয়ে চলছে তদন্ত।
সংশ্লিষ্টরা জানান, যুবলীগ মহিলা লীগ নেত্রী পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন চৌধুরী ‘যৌনসেবার নামে ব্ল্যাকমেইলের’ মাধ্যমে কখনো ফ্ল্যাট, কখনোবা মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করতেন ব্যবসায়ী বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে। এভাবে বিভিন্নজনের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ফায়দা লুটেছেন তারা।

তাদের প্রতারণারঃ-

শিকার বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী মুখ খুলতে শুরু করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া যাদের নাম প্রকাশ করেছেন সেগুলো তালিকা করে ব্যাপক অনুসন্ধান চালাচ্ছে তদন্ত সংস্থাগুলো। দেখা হচ্ছে, পাপিয়া কাউকে ফাঁসিয়ে দিচ্ছেন কি না তাও। ২০১২ সালের অক্টোবরে নরসিংদী শহরের বাসাইল এলাকায় নিজ বাসার সামনে তার স্বামী সুমন চৌধুরীর ওপর সন্ত্রাসীরা হামলা চালালে পাপিয়া এগিয়ে যান এবং গুলিবিদ্ধ হন। তারপর থেকে দুজনই বদলে যান। পাপিয়ার কোনো কাজেই বাধা দিতেন না সুমন। জেলার একজন রাজনৈতিক নেতা হয়ে রাজধানী ঢাকায় পাপিয়া কীভাবে বিলাসী জীবনযাপন করতেন সে রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। তার স্বজনদের কী অবস্থা তারও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তার সঙ্গে কার কার সখ্য ও কারা কারা তার ‘পার্টিতে’ যেতেন তাও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। অনেক ভুক্তভোগী মুখ খুলতে শুরু করেছেন। তারা যোগযোগ করছেন। আবার কেউ কেউ মামলা করারও উদ্যেগ নিচ্ছেন।

পাপিয়ার নির্যাতনের শিকার আরেক ভুক্তভোগী স্বপন মিয়া। এ প্রতিবেদককে তিনি জানান, ২০১৮ সালের জুন মাসে পাপিয়া ও সুমনের সঙ্গে তার পরিচয়। ব্যবসার কথা বলে তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নেন তারা। স্বপন মিয়া বলেন, ‘ওই টাকা দাবি করলে গত বছরের ডিসেম্বরে আমাকে গুলশান নিয়ে যায়। পরে একটি রুমে একটি মেয়েকে দিয়ে খারাপ আচরণ করায়। পরে ভিডিও করে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা চালায়। গ্রেপ্তারের কিছুদিন আগে পাপিয়া ও সুমন আমাকে জানায়, আপনার সঙ্গে খারাপ আচরণ করা ঠিক হয়নি। আমরা নরসিংদী আসছি। আপনি আসেন। পরে তাদের বাসায় গেলে আবারও নির্যাতন শুরু করে। একটি রুমে দুদিন আটকে রাখে। টাকার কথা বললে অ-কোষে লাথি মারেন পাপিয়া। রাতে সুযোগ পেয়ে তার আস্তানা থেকে পালিয়ে আসি। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সংস্থাকে বলেছি। তারা মামলা করতে বলেছে। নির্যাতনের কথা মনে পড়লে ঘুম আসে না। ’

র‌্যাবের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যম কে জানান, অভিজাত হোটেলে তরুণীদের দিয়ে অনৈতিক দেহ ব্যবসার কাজে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কিছু পাহাড়ি তরুণীদেরও ব্যবহার করতেন পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন। বিভিন্ন প্রলোভনে তাদের ঢাকায় এনে এ অসামাজিক কাজে জড়ান তারা। তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া স্বীকার করেছেন, নারী ব্যবসার আড়ালে মুদ্রা পাচার ছিল তার অন্যতম বাণিজ্য। বেশ কয়েকটি দেশের অ্যাকাউন্টে তার অর্থ রয়েছে। তবে তার দেওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ নিয়ে পাপিয়ার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর যদি তার সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিআইডির ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ। তিনি সাংবাদিকদের জানান, পাপিয়ার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য জানতে ইতিমধ্যেই দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্য পুরো তথ্য হাতে পাওয়া যাবে। সেসব তথ্য হাতে পাওয়ার পর মানি লন্ডারিংয়ে যদি পাপিয়ার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণিত হয় তবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি রবিবার গোপনে দেশত্যাগের সময় নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সেক্রেটারি শামিমা নূর পাপিয়াকে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন পাপিয়ার স্বামী ও তার অবৈধ আয়ের হিসাবরক্ষক মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন, পাপিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী শেখ তায়্যিবা ও সাব্বির খন্দকার। জাল টাকা উদ্ধার, অস্ত্র ও মাদকের পৃথক তিন মামলায় পাপিয়ার ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। তার স্বামী মফিজুর রহমানেরও ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। এছাড়া মামলার অন্য দুই আসামি পাপিয়ার সহযোগী সাব্বির খন্দকার ও শেখ তায়্যিবাকেও রিমান্ডে নেওয়া হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় sweb.net