মনোহরগঞ্জে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে রক্ষা করতে গিয়ে অজ্ঞাত ডাকাতির হামলাকারীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ওমর ফারুক (৩৮) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তার হাত ও পিঠে গুরুতর জখম হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটে উপজেলার নাথেরপেটুয়া বাজার থেকে প্রায় ১০০ গজ উত্তরে রেললাইনের পশ্চিম পাশে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সহিদের বাড়ির সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
আহত ওমর ফারুক উপজেলার ৯ নম্বর উত্তর হাওলা ইউনিয়নের হাতিমারা গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে।
ফারুকের ভাষ্য, ঘটনার সময় স্বর্ণ ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম (৪৫) ও সহীদ হোসেন (৪৫)কে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে ফেলে দেন। তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে ওই ব্যক্তি সুইচ গিয়ার জাতীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে তার হাত ও পিঠে গুরুতর জখম হয় এবং কয়েকটি রগ কেটে যায় বলে দাবি করেন তিনি।
ফারুক আরও বলেন, হামলাকারী নুরুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে বলেন,‘নুরু আমার পরিচিত, পূর্বের ঝামেলা আছে—আপনারা চলে যান।’ তবে নুরুল ইসলাম ওই ব্যক্তিকে চেনেন না বলে দাবি করেছেন।
এদিকে হামলাকারীর পরিচয় গোপন করা হচ্ছে—এমন সন্দেহের কথা জানিয়েছেন আহত ফারুক। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।ফারুকের জেঠাতো ভাই মো. আহসান জানান, স্বর্ণ ব্যবসায়ী সহীদ ও তার দারোয়ান আহত ফারুককে উদ্ধার করে স্থানীয় ভূইয়া মেডিকেলে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে কুমিল্লা ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি নাথেরপেটুয়া ভূঁইয়া মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত ফারুকের বাবা আব্দুল মতিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলেকে ডাকাতরা মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে। আমার কোনো অর্থ-সম্পদ নেই। ছেলের চিকিৎসার খরচ কীভাবে বহন করব, জানি না।’চিকিৎসাজনিত কারণে থানায় অভিযোগ করতে কিছুটা দেরি হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নাথেরপেটুয়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সৈকত বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে।ঘটনাটি ডাকাতির চেষ্টা, নাকি পূর্ববিরোধের জেরে হামলা—তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।