ঢাকা   ০৫:১৮:৫২ এএম, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জের রামপুরে নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান, মজুদ প্রায় ৯৮ বিলিয়ন ঘনফুট পোশাক শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখতে কৌশলগত নেতৃত্ব তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির ১২ কেজির সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়ল ২২৩ টাকা মাগুরায় মধুমতী নদীতে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত  কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আবহাওয়ার আগাম বার্তা পাবেন কৃষকরা উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ  ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আমজাদ এন্টারপ্রাইজের কেমিক্যালের ড্রাম ব্যবসা, দূষণের ঝুঁকিতে কর্ণফুলী নদী, আতঙ্কে নোমান কলেজ রোডের বাসিন্দারা মাগুরায় নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত টঙ্গীর রাজনগরে জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ, মাফিজুরের গ্রেপ্তার দাবি ভুক্তভোগীদের

ভৈরব খাদ্যগুদামের কেলেঙ্কারি ঘটনায় নিরহ ১০ শ্রমিক দেড় মাসেরও বেশি দিন ধরে কারাগারে

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৯ মে, ২০২০
  • ৩২২ বার
  • ৬ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

তন্ময় আলমগীর, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
ভৈরব খাদ্যগুদামে কেলেঙ্কারির ঘটনায় অপরাধীদের সঙ্গে নিরীহ ১০ শ্রমিককেও কারাভোগ করতে হচ্ছে। তারা দেড় মাসেরও বেশি দিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। ফলে শ্রমিকদের পরিবারগুলো অর্ধাহারে অনাহারে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। ঘটনার দিন ভৈরব খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হাসান ও গুদামের শ্রমিক সরবরাহকারী মো. ফারদুল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের সঙ্গে ১০ জন শ্রমিকও আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃত শ্রমিকরা হলেন- বরজু মিয়া (৩৫), মো. ফরিদ (৪৯), মো. হোসেন মিয়া (৪০), মো. সোহরাব মিয়া (২৯), মো. মিটন মিয়া (২৮), রউফ মিয়া (২৭), মো. লোকমান মিয়া (৩৩), মো. মন মিয়া (২৮), মো. হান্নান মিয়া (৩৬), তাজুল ইসলাম ( ২২)। তাদের সবার বাড়ি ভৈরবের বিভিন্ন গ্রামে। তাদের আয়ের ওপরই নির্ভর করত সংসারের খরচ। তারা কারাগারে বন্দী থাকায় পরিবারগুলো চরম খাদ্যাভাবে রয়েছে বলে জানিয়েছেন গুদামের শ্রমিক সরদার।

গত ২১ মার্চ খাদ্য অধিদফতরের মহা-পরিচালক সারোয়ার মাহমুদ ভৈরব খাদ্যগুদাম পরিদর্শন করতে গিয়ে দুই ও তিন নম্বর গুদামের মজুত কম সন্দেহে সিলগালা করে দেন। পরদিন ২২ মার্চ খাদ্যগুদামের কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম গুদামের সিলগালা খুলে ফেলেন।

খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ ১২ জনকে আটক করেন। এদিন রাতেই জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ তানভীর হোসেন ১০ শ্রমিকসহ ১২ জনকে আসামী করে ভৈরব থানায় একটি মামলা করেন। এরপর জেলা প্রশাসকের গঠন করা পাঁচ সদস্যের তদন্ত টিম খাদ্যগুদামের ছয়টি গুদামের মজুত মালামাল যাচাই শেষে ৮১ টন চাল ও এক লাখ ৭৭ হাজার নতুন খালি বস্তার মজুত কম দেখতে পান।

উল্লেখিত মালামালের সরকারি মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা বলে অফিস সূত্রে জানা গেছে। ঘটনায় শ্রমিক সরবরাহকারী ফারদুল্লাহর ভাই মো. ওবাইদুল্লাহ দাবি করেন আমার ভাইয়েরও কোনো অপরাধ নেই।

খাদ্য গুদামের শ্রমিক সরদার আবদুস সালাম জানান, ঘটনার দিন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশে শ্রমিকরা গুদামের ভেতরে কাজ করেছে। গুদামটি সিলগালা ছিল কিনা আমরা তা জানিনা। শ্রমিকরা দিন আনে দিন খায়। অপরাধ করলে গুদামের অফিসার করেছেন। আমরা হুকুম দিলে কাজ করি। অথচ এদিন ১০ শ্রমিককে গ্রেফতার করা হয়। তারা ৪৬ দিন ধরে কারাগারে। শ্রমিকদের পরিবারগুলো অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। আমি তাদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করছি।

এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তানভীর হোসেন জানান, ১০ শ্রমিকসহ ১২ জনকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আটক করেছেন বলেই আমি ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঘটনার অপরাধে থানায় মামলা করেছি। শ্রমিকদের কোনো অপরাধ আছে কিনা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, বিষয়টি মামলার তদন্তে প্রমাণ হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা জানান, খাদ্য অধিদফতরের ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমি তাদেরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করি। মামলা করেছে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা। আমি ঘটনার দিন হাতেনাতে সিল ভাঙা গুদামের ভেতরে শ্রমিকদের পেয়েছি। তাই আটক করতে বাধ্য হয়েছি। এখন মামলার তদন্তে শ্রমিকরা অপরাধী না হলে মুক্তি পাবে। বিষয়টি এখন আমার এখতিয়ারে নেই বলে তিনি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি