ঢাকা   ০২:২০:৪৬ এএম, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
দি স্কলার ফাউন্ডেশন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের বিশেষ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত তাসখন্দে এশিয়ান টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ ও এজিএমে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন ডিএমপি কমিশনার মাগুরায় যুবদল নেতা সাকের হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন,বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ নাঙ্গলকোটে প্রত্যয় সংগঠনের ত্রৈমাসিক অগ্রগতি ও পরিকল্পনা অনুষ্ঠিত আসিফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি, সন্দেহ সিএনজি থেকেগাড়ির ভেতর থেকে একটি গুলির কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা টোকিওর বৃহত্তর বাংলাবাজারে ৭ম শানে রিসালাত সম্মেলন অনুষ্ঠিত মাগুরায় জুলাই শহীদ আসিফ ইকবাল  ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত এনআইডি সংশোধনে ইসির বড় অগ্রগতি, ৬৪ লাখের বেশি আবেদন নিষ্পত্তি পথিকদের বিশুদ্ধ পানির জন্য কালির বাজারে নলকূপ উদ্বোধন করেন জামায়াতে ইসলামী 

মঠবাড়িয়ায় গৃহবধূ ধর্ষণ আসামিদের রক্ষায় টাকার খেলা

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২০
  • ৩৬৬ বার
  • ৭ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

পিরোজপুর প্রতিনিধি:
মঠবাড়িয়ার দাউদখালিতে আলোচিত গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনায় এলাকাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। আসামিদের রক্ষায় স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র উঠে পড়ে লেগেছে। অপরদিকে আসামিদের দ্রæত বিচারের দাবিতে সচেতনমহল সোচ্চার হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, আতœস্বীকৃত ধর্ষকদের জিজ্ঞাসাদের জন্য রিমান্ড না চাওয়া এবং থানা হাজতে তাদের সাথে প্রভাবশালীদের সাক্ষাত নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। উল্লেখ্য, গত ২৭ মে রাতে পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থানার দাউদখালি এলাকায় দুই সন্তানের জননীর ঘরে কৌশলে প্রবেশ করে সালাম গাজী (৪৫) আর সাইফুদ্দিন কাজী(৩১)। এরপর প্রতিবন্ধী স্বামী ও দুই শিশুকে জিম্মি করে। গৃহবধূকে তুলে নিয়ে যায় পাশের বারান্দায়। সেখানে সালাম গাজী মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে গৃহবধূকে। আর পাহারায় থাকে সাইফুদ্দিন কাজী। ভূক্তভোগীর ডাক চিৎকারে এগিয়ে আসে প্রতিবেশিরা। উপায়ন্তর না দেখে পালিয়ে যায় দুই লম্পট। বিষয়টি তখন স্থানীয় গণ্যমাণ্য ব্যক্তি থেকে শুরু করে থানা পর্যন্ত গড়ায়। ভূক্তভোগী জানান, স্থানীয় চেয়ারম্যানের রাহাত এর ইশারায় বিষয়টি চাপা পড়ে তখন। পরে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে ধর্ষকরা। এরই মধ্যে গত ১ জুন ওই লম্পটরা একইভাবে আবারো কৌশলে ভূক্তভোগীর ঘরে প্রবেশ করে। তারা গৃহবধূর মুখ চেপে ধরে বারন্দায় নিয়ে ধর্ষণ করে। যাবার সময় সালাম গাজী ও সাইফুদ্দিন কাজী গৃহবধূ ও তার স্বামীকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখায়। গত ৭ জুন ওই নির্যাতিতা গৃহবধূ বাদী হয়ে মাঠবাড়িয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকে অভিযুক্ত আসামিরা মামলার বাদী এবং তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল। অব্যাহত হুমকির পরেও মামলা তুলে না নেয়ায় গত ২২ জুন গভীর রাতে ভূক্তভোগির বসত ঘরের পাশে রান্নাঘরে অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে। আসামিরা বাড়িতে অবস্থান করলেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেনি রহস্যজনক কারনে। এরই মধ্যে গত শুক্রবার নতুন বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে অভিযুক্ত ধর্ষক সালাম গাজী ও মো. সাইফুদ্দিন কাজীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় বরিশাল র‌্যাব-৮ এর একটি চৌকষ দল। গ্রেপ্তারকৃত আসাসি সালাম গাজী স্থানীয় নূরজাহান মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি। অপর আসামি মান্নান কাজীর পুত্র দাউদখালী (ডিগ্রী) ফাজিল মাদরাসার নাইটগার্ড সাইফুদ্দিন কাজী। ধর্ষণের শিকার হয়ে আইনের আশ্রয় নেন ওই গৃহবধূ। কিন্তু প্রভাবশালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের ইশারায় থানা পুলিশ ছিলো দর্শকের ভূমিকায়। অবশেষে র‌্যাবের হস্তক্ষেপে গ্রেপ্তার হয় অভিযুক্ত দুই ধর্ষক। স্বস্তিতে এলাকাবাসি। আত্মতৃপ্তিতে ভূক্তভোগী গৃহবধূ। এখন শুধু ধর্ষকের শাস্তির অপেক্ষা। মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুজ্জামান আমাদের কন্ঠকে বলেন, ঘটনার সাথে অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে তদন্তে প্রমান মিলেছে। ধর্ষণ মামলার দুই আসামিকে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। এদিকে আসামিদের রিমান্ডে না নেয়া এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ না করায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন প্রশ্ন। বাদীর স্বজনরা অভিযোগ করেন, আসামিদের রিমান্ডে না নেয়ার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে থানা ম্যানেজ করা হয়েছে। এ ছাড়া আসামিদের হয়ে প্রভাবশালী মহল বাদিকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। তবে বিষয়টি অস্বীকার করে ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা একই থানার এস আই সজল ইসলাম বলেন, টাকা লেন-দেনের বিষয়টি সত্য নয়। আর মামলাটি যেহেতু তদন্তাধীণ সেহেতু এসব বিষয়ে কথা না বলাই ভালো। এদিকে সুপ্রীম কোর্টের বিশিষ্ঠ আইনজীবী কে এম রেজাউল ফিরোজ রিন্টু বলেন, এই ধরনের মামলায় ধর্ষণের পেছনের রহস্য ও ধর্ষকদের সংখ্যা উদঘাটনের জন্য আসামিদের রিমান্ডে নেয়ার আবশ্যিকতা রয়েছে। তবে তদন্ত কর্মকর্তা যদি মনে করেন তিনি মামলা সংশ্লিট সকল ধরনের তথ্য পেয়েছেন সে ক্ষেত্রে তিনি রিমান্ড নাও চাইতে পারেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি