1. nerobtuner@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  2. omarfarukbd12@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  3. info@shamolbangla.net : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
পিঠে লোহার বড়শি গেঁথে চড়ক গাছে ঝুলছে নিতাই! - দৈনিক শ্যামল বাংলা
বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজের আহ্বান রাষ্ট্রপতির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, অপরাধও কমেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনোয়ারায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের দায়ে, ৩ জনকে অর্থ ও কারাদণ্ সাবিনা ইয়াসমিনের জন্মদিনে ‘শুধু গান গেয়ে পরিচয়’ শত বছর পর মার্কিন মুদ্রায় জীবিত প্রেসিডেন্টের ছবি, ১ ডলারের কয়েনে ট্রাম্প ন্যায়বিচার, সমতা ও মানবাধিকারই টেকসই শান্তির সংস্কৃতির ভিত্তি ৭ পুলিশ কর্মকর্তা চাকরি থেকে বরখাস্ত জালালাবাদ ওয়ার্ডকে একটি মডেল ওয়ার্ড হিসাবে গড়তে চাই – কাউন্সিলর প্রার্থী এডভোকেট মো.শফিকুল আলম স্বপন ৫ই সেপ্টেম্বর লংমার্চ সফল করতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে জামায়াতের লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ এফ এ এফ মাল্টিলিঙ্গোয়াল স্কুল এন্ড কলেজে’র অভিভাবক সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত 

পিঠে লোহার বড়শি গেঁথে চড়ক গাছে ঝুলছে নিতাই!

মোহাম্মদ নুর আলম সিদ্দিকী মানু,বিশেষ প্রতিবেদকঃ
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২২
  • ৪৪৭ বার

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম একটি বার্ষিক উৎসব চড়ক পূজা। এই পূজায় পিঠ জুড়ে বড়শি গেঁথে চড়ক গাছে ঝুলে চারদিক প্রদক্ষিণ করেন নিতাই চন্দ্র সরকার।

গত ৪০ বছর যাবৎ এই পূজা করে আসছেন তিনি। এই পূজা তিনি দুনিয়ার সকল মানুষের শান্তি কামনার জন্য করে থাকেন।

প্রতি পহেলা বৈশাখ আসলেই ঢাকা জেলা ধামরাই উপজেলার কান্দিরকুল গ্রামের বাসিন্দা নিতাই গ্রহণ করেন সন্ন্যাস জীবন । আর বৈশাখের এই প্রথম তিন দিন চলে দেল যাত্রা, শিব-পার্বতী নাচানো, বাইদানি নাচ, হাজরা, ধুপ নাচ ও চরক পূজা (বড়শি পিঠে গেথে শূণ্যে ঘোড়া)।

পহেলা বৈশাখ বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) এই চরক পূজা হওয়ার কথা থাকলেও ধামরাইয়ে একদিন পরে আয়োজন হয় শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) বিকাল ৫টা থেকে ধামরাইয়ের যাত্রাবাড়ী মাঠে চড়কগাছ পূজা আয়োজন করা হয়েছে৷

পূজার আয়োজনে গিয়ে দেখা গেছে, নিতাই আসার আগেই চরকে গাছটিকে জড়িয়ে ধরে নৈকট্য লাভের আশা করছেন আগত ভক্তরা। এ সময় গাছটিকে চুমুও খেতে দেখা যায় ভক্তদেরকে। একটু পরেই নিতাই সেখানে এসে বরশির সাথে সুতো লাগিয়ে ঝুলতে শুরু করে। এর আগে কয়েকটি বড়বড় লোহার বরশি তিনি তার পিঠে গেথে নেন।
পরে সেই বরশিতে সুতো লাগিয়ে শূন্যে উড়ে প্রায় ২১ পাক ঘুরেন তিনি। সেই সাথে তার শিশু নাতী-নাতনিকে নিয়েও শূণ্যে ঘুড়েন৷ তার এই চরক ঘোড়াকে কেন্দ্র করে মাঠটিতে একটি মেলা বসেছে। আর বরশি দিয়ে শূন্যে ঘোড়া দৃশ্যটি দেখতে এসেছে হাজার হাজার মানুষ। প্রায় আধা ঘণ্টা পর তিনি চরক থেকে নেমে যান৷

নিতাই চরকিতে উঠার আগে বলেন, আমার চার পুরুষ এই আচার পালন করে এসেছে। হিসাবে বলা যায় প্রায় ২’শ বছর আমরা এই পূজা করে আসছি। আমার বাবা করতে পারেননি। দাদুর পরে আমি ১২ বছর বয়স থেকে আবার শুরু করি। ৪০ বছর ধরে টানা আমি এই পূজা করে আসছি। শুধু এটা বলতে পারি, এই পূজার সময়ে আমি এক অন্য আধ্যাত্মিক জগতে চলে যাই। ঈশ্বরের জন্যে নিজেকে একদম সপে দেই। একারণে কোন ব্যথা বা কোন অনুভূতিই হয় না। আমি আলাদা এক মানুষ হয়ে যাই।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চড়ক পূজাকে সামনে রেখে সন্ন্যাস গ্রহণের পরে বাড়িতে খাওয়া বন্ধ করে দেই। ঘুরে ফিরে মানুষ যা দেয় তাই খাই। সেটাও শুধু নিরামিষ। সন্ন্যাসীরা (সহযোগীরা) নাচেন। ভক্তরা নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী (চাল, অর্থ দান) করেন। তা ছাড়াও সারাবছর আমি কিছু কবিরাজি চিকিৎসা করি। পূজা শেষ হলে আজ আমার সাথে সবাই নিরামিষ খাবে।

তিনি বলেন, যখন থেকে পূজার সময় শুরু হয়। হিন্দু মুসলিম সবাই সহযোগিতা করে, উৎসাহ দেয়। চড়ক গাছে ঘোরানোর দৃশ্য দেখতে আসে হাজার হাজার মানুষ। তখন বিষয়টা যতটা না পূজার আচার থাকে, তারচেয়ে বেশি হয় উৎসব। সেখানে হিন্দু মুসলিম সবাই আসে।

নিতাইয়ের মেয়ে নির্জনা বলেন, এই পূজাটি শত বছর আগের পূজা। আমার বাপ দাদারা শত বছর ধরে এই পূজার আয়োজন করে আসছেন। এখন আমার বাবা এই পূজার আয়োজন করেছেন। পূজাকে ঘিরেই এখানে মেলা হয়। আমার বাবা শূণ্যে উড়ার সময় আমার ছেলে শুভ্র নিল ও ভাতিজা কৌশিককে নিয়ে শুন্যে উড়ে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় sweb.net