ঢাকা   ১২:০০:২১ এএম, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জের রামপুরে নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান, মজুদ প্রায় ৯৮ বিলিয়ন ঘনফুট পোশাক শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখতে কৌশলগত নেতৃত্ব তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির ১২ কেজির সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়ল ২২৩ টাকা মাগুরায় মধুমতী নদীতে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত  কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আবহাওয়ার আগাম বার্তা পাবেন কৃষকরা উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ  ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আমজাদ এন্টারপ্রাইজের কেমিক্যালের ড্রাম ব্যবসা, দূষণের ঝুঁকিতে কর্ণফুলী নদী, আতঙ্কে নোমান কলেজ রোডের বাসিন্দারা মাগুরায় নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত টঙ্গীর রাজনগরে জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ, মাফিজুরের গ্রেপ্তার দাবি ভুক্তভোগীদের

স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যার পর থানায় স্বামীর আত্মসমর্পণ

ফয়সাল চৌধুরী।।
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন, ২০২২
  • ১১১৫ বার
  • ৭ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

কুষ্টিয়ায় পারিবারিক কলহের জের ধরে রত্না খাতুন নামে এক (গৃহবধূ) স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যার পর থানায় গিয়ে স্বামী রনি আত্মসমর্পণ করেছেন।

বুধবার (১৫ জুন) সন্ধ্যার দিকে কুষ্টিয়া শহরের কলেজ মোড় এলাকায় রাজু আহম্মেদ সড়ক
(আফু চেয়ারম্যানের গলি) এলাকার ২০ নম্বর হোল্ডিং ভবনের তৃতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্বামী ও শাশুড়িকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ রত্না খাতুন (৩৫) নামের ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বিরুল আলম‌ ।

পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, থানায় এসে এক ব্যক্তি বাড়িতে স্ত্রীকে হত্যা করে এসেছেন এমন কথা তিনি জানান। প্রথম দফায় বিষয়টি আমলে নেয়নি পুলিশ। এরপর তিনি বললেন, ‘আমাকে সঙ্গে নিয়ে চলেন, লাশ দেখাব।’ এবার নড়েচড়ে বসে পুলিশ। টহল পুলিশের গাড়িতে করে নিয়ে ওই ব্যক্তির বাসায় গিয়ে পৌঁছালে পাওয়া যায় লাশ। সূত্রে আরো জানা যায়, ২০০৭ সালে পারিবারিকভাবে রনির সঙ্গে বিয়ে হয় রত্নার। তাদের দুটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।পারিবারিক কলহের জেরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে রনি ও তার মা শ্বাসরোধ করে রত্না খাতুনকে হত্যা করে।

রত্না খাতুন (৩৫) জেলার মিরপুর উপজেলার চারমাইল এলাকার নাজিম উদ্দীনের মেয়ে। তার স্বামী রনি হোসেন (৪২) কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল ইউনিয়নের বটতৈল গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেনের ছেলে ও
ওই এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় ইজিবাইকচালক।

কুষ্টিয়া মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নিশিকান্ত সরকার বলেন, রাত সাড়ে আটটার দিকে এক ব্যক্তি থানায় প্রবেশ করেন। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যকে (সেন্ট্রি) জানান, তিনি বাসায় স্ত্রীকে হত্যা করে এসেছেন। প্রথমে পুলিশ সদস্য বিষয়টি বিশ্বাস করেনি। ওই ব্যক্তি নিজের নাম রনি হোসেন ও বটতৈল এলাকায় বাড়ি পরিচয় দিয়ে আবারও হত্যার কথা জানান।

নিশিকান্ত সরকার বলেন, ‘একপর্যায়ে আমার কাছে আসে। আমিও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। এভাবে কেউ হত্যা করে থানায় আসে নাকি। রনি এ সময় সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন। একপর্যায়ে শহরে টহল পুলিশের (কিলো) গাড়িতে করে ওই ব্যক্তিকে নিয়ে তাঁর বাসায় যায়। শহরের কলেজমোড় এলাকায় রাজু আহম্মেদ সড়কের একটি তিনতলা বাড়ির তৃতীয়তলার ডানপাশের ফ্লাটে যাওয়া হয়। সেখানে ওই বাসার শৌচাগারের ভেতরে পড়ে থাকা লাশ দেখিয়ে বলেন, হাত দিয়ে গলাটিপে হত্যার পর লাশ এখানে রেখেছিলেন তিনি। পরে রনিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।’

তিনি আরও বলেন, হত্যার প্রাথমিক কারণ হিসেবে রনি বিশ্বাস দাবি করেছেন, রনির অঙ্গহানি করার হুমকি দিয়েছিলেন রত্না। তাঁরা বটতৈল এলাকায় থাকেন। বুধবার সন্ধ্যায় শহরে কলেজ মোড় এলাকায় রনির মায়ের ভাড়া বাসায় নিয়ে আসেন। সেখানে কৌশলে তাঁকে গলাটিপে হত্যা করেন।

নিহতের বাবা নাজিম উদ্দীন
বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে রত্নাকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে রনি ও তার মা। বিকেলে মোবাইল করে কৌশলে রত্নাকে তার স্বামীর বাড়ি বটতৈল থেকে কুষ্টিয়া শহরে ডেকে আনেন শাশুড়ি। শাশুড়ি ছাত্রাবাস ও বাসা বাড়িতে বুয়ার কাজ করেন ও কুষ্টিয়া শহরের আফু চেয়ারম্যানের গলিতে একটি ভবনের তৃতীয় তলায় ভাড়ায় থাকে। ওই ভাড়া বাসায় রত্না আসলে তার স্বামী ও শাশুড়ি শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করে।

নিহতের স্বজনরা জানায়, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝেমধ্যেই বাকবিতণ্ডা হতো, রত্নাকে মারপিট করত তার স্বামী। রত্না ভালো মানুষ ছিল। সে নির্যাতন মুখ বুঝে সহ্য করে ভালোভাবেই সংসার করছিল। কিন্তু রত্নাকে বাঁচতে দিল না ওরা। শ্বাসরোধ করে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। ওদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

মুঠোফোনে ফোন দিলে
এই ঘটনা তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর হাসান জানান, কোর্টে একটি সাক্ষী দেওয়ার জন্য কোর্টে আছি । সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে ঘটনা সম্পর্কে জানাবো ‌।

ওসি সাব্বিরুল আলম জানান, রনিকে পুলিশের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সেখানে কুষ্টিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতিকুল ইসলাম রয়েছেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি