ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আদালত পাড়ার মরহুম আব্দুল খালেক সাহেবের বাড়িতে কিশোর গ্যাংয়ের হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সচেতন ছাত্র সমাজের ব্যানারে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন কলেজ শিক্ষার্থীরা।
সোমবার নবীনগর প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট স্বারকলিপি প্রদান করা হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন ইসমামুল হক ভূইয়া। বক্তব্য রাখেন, নূরে আলম সিয়াম, মো. তামিম, হাসান, মো. রাকিবসহ আরো অনেকে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার নবীনগর সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীর দুই ছাত্রের মাঝে সিটে বসাকে কেন্দ্র করে তর্ক বিতর্কের জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলায় তিনজন গুরুতর আহত হয়। মুমূর্ষ অবস্থায় আহত নাফিস উল হক ভূইয়াকে দ্রুত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের গৃহকর্তী আহত জান্নাতুল মাওয়া নবীনগর থানায় বাদী হয়ে নবীনগর কিশোর গ্যাং এর লিডার কলেজ ছাত্র টিএনটি পাড়ার গোলাম মিয়ার ছেলে মুন্নাকে প্রধান করে পাঁচ জন এজহারভুক্ত ও অজ্ঞতা ৪৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
সুত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার দুপুরে সরকারি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থী নূরে আলম সিয়াম ও ইমরুল (মুন্না) এর সাথে কেন্দ্রের আসন নিয়ে তর্ক বিতর্ক হয়। এর জের ধরে মুন্না তার কিশোর গ্যাং এর দল নিয়ে সিয়ামকে তাড়া করে। একপর্যায়ে সিয়াম প্রাণভয়ে আদালতপাড়ার মরহুম আব্দুল খালেক সাহেবের বাড়ি তার বন্ধু নাফিস উল হক ভূইয়ার বাড়িতে আশ্রয় নেন। ওই কিশোর গ্যাং এর ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি গ্রুপ দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে ওই বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এসময় বাধাঁ দিতে গিয়ে নাফিস উল হক ভূইয়া, তার চাচা এ কে এম মমিনুল হক ভূইয়া জালাল ও তার মা জান্নাতুল মাওয়া গুরুতর রক্তাক্ত আহত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক বিরোধকে কেন্দ্র করে বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
মানববন্ধন থেকে হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
এ ব্যাপারে নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মুরশেদুল ইসলাম বলেন, মামলা হয়েছে, আসামিদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত আছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল ইসলাম ছাত্র সমাজের স্মারক লিপিটির প্রাপ্তি স্বীকার করে বলেন, “এই ধরনের ঘটনা কাম্য নয়, এ ধরনের ঘটনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।”