এক সপ্তাহে ৪/৫টি চুরির অভিযোগ, এবার দলিল লেখকের বাসায় বড় চুরি; চোর ধরতে প্রশাসনের সফল অভিযান কোথায়?
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় গত এক সপ্তাহে একের পর এক চুরির ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বসতঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির অভিযোগের মধ্যেই এবার চোরের দল হানা দিয়েছে দলিল লেখক আবদুস সাত্তার-এর বাসায়।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী আবদুস সাত্তার জানান, তাঁর বাসা থেকে প্রায় ১৩ ভরি স্বর্ণ, ৪ ভরি রুপা, নগদ ৯ লাখ টাকা, ২ হাজার ইউরো, ৩/৪টি চেকবই এবং ৩টি ব্যাংকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চুরি হয়েছে বলে তিনি ধারণা করছেন।
জানা গেছে, সম্প্রতি তাঁর ছেলে ইউসুফ ইউরোপ থেকে দেশে আসেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসায় থাকা মূল্যবান সামগ্রী ও নগদ অর্থের মধ্যেই চোরেরা হানা দিয়েছে। চুরির ঘটনায় পরিবারটির মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
একের পর এক চুরি, উদ্বেগ বাড়ছে
দলিল লেখক আবদুস সাত্তারের বাসায় চুরির ঘটনা নতুন করে কোম্পানীগঞ্জের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়দের দাবি, গত এক সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৪/৫টি চুরির ঘটনা ঘটেছে। কোথাও বসতঘর, কোথাও দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কয়েকটি ঘটনায় রাতে দোকান কিংবা বাসার নিরাপত্তাব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে চোরেরা প্রবেশ করে নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে কোম্পানীগঞ্জে অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক দোকান ও একটি বাসায় চুরির খবরও সামনে আসে। এসব ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
প্রশাসনের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন
ধারাবাহিক এসব চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—চোরচক্র ধরতে প্রশাসনের কার্যকর ও সফল অভিযান কোথায়?
স্থানীয়দের অভিযোগ, একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত চোরচক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কোনো দৃশ্যমান অভিযান বা উল্লেখযোগ্য গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে কি না, তা নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তাদের দাবি, শুধু চুরির ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন কিংবা মামলা গ্রহণ করলেই হবে না। চোরচক্র শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত রাতের টহল, সন্দেহভাজনদের নজরদারি এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে কার্যকর অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় বাসিন্দারা
চুরির ধারাবাহিকতায় অনেক পরিবার এখন রাতে বাড়িঘরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। ব্যবসায়ীরাও দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পর প্রতিষ্ঠান নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকছেন।
স্থানীয়দের মতে, গুরুত্বপূর্ণ বাজার, আবাসিক এলাকা ও প্রবেশপথগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতা বাড়ানো এবং পুলিশের টহল জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে চোরচক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
কোম্পানীগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা, সাম্প্রতিক চুরির ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে ধারাবাহিকভাবে তদন্ত করা হবে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে।
এক সপ্তাহে একাধিক চুরি, এবার দলিল লেখকের বাসায় বড় ধরনের চুরির অভিযোগ—কোম্পানীগঞ্জের মানুষ এখন জানতে চায়, নিরাপত্তাহীনতার এই পরিস্থিতির অবসান কবে?