ইউএনও বরাবর লিখিত আবেদন
নবীগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ও গালিমপুর মোহাম্মদিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হুমায়ুনূর রহমান লেখনের বিরুদ্ধে নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, এমপিওভুক্তিতে অনিয়ম ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন মাদ্রাসাটির স্থানীয় অভিভাবকরা। লিখিত অভিযোগে বলা হয়, অধ্যক্ষ হুমায়ুনূর রহমান ২০২১ সালে মাদ্রাসাটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করলেও কমিটির দুর্নীতি, নিয়োগ জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ২০১৫ সাল থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত হিসেবে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করে ২০২২ সালে এমপিওভুক্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার নিয়োগ, নিবন্ধন ও অভিজ্ঞতার কাগজপত্র যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। অভিযোগে আরও বলা হয়, মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ ও এমপিওভুক্তকরণ, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে পরীক্ষা গ্রহণ, ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান টি’ প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনা, ২০২২ সাল থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে টিউশন ফি বণ্টন না করা এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন ফি আদায়সহ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম করা হয়েছে। অভিভাবকদের দাবি, এসব অভিযোগের পর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সরেজমিনে মাদ্রাসায় গিয়ে তদন্ত করেন এবং প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায়। অধ্যক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, তদন্ত প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ কারণে তারা উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রেও অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে। বিশেষ করে ইবতেদায়ি প্রধান আবুল কালাম আজাদ ও ইবতেদায়ি কারি আমিনুল ইসলামকে ‘ব্যাকডেটে’ নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে দাবি করা হয়, ইবতেদায়ি প্রধান আবুল কালাম আজাদ ২০০৮ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের আহমদিয়া মোল্লাপাড়া দাখিল মাদ্রাসায় অফিস সহায়ক কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে কর্মরত ছিলেন এবং সরকারি বেতনের এমপিও অংশ গ্রহণ করেছেন। এছাড়া প্রবাসী ও স্থানীয়দের অনুদানে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসার আর্থিক হিসাব নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। তজমুল আলীকে ভুয়া দাতা সদস্য দেখিয়ে এবং চলচাতুরীর মাধ্যমে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দাতা প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করে গর্ভনিং বডির নির্বাচনকে বির্তকিত করেন। মূলতঃ তজমুল আলী ৩ লাখ টাকা দিলেও মাদ্রাসার একাউন্টে টাকা জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠে প্রিন্সিপাল হুমায়ুনের বিরুদ্ধে। এছাড়াও নির্বাচনে অন্যান্য সদস্য পদে নানা অনিয়ম, পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে গর্ভনিং বডির প্যানেল কমিটি গঠন এবং প্রকৃত অভিভাবকদের বাদ দেওয়ার অভিযোগও করেছেন আবেদনকারীরা। অভিযোগে আরও বলা হয়, মাদ্রাসার এমপিওভুক্তির নামে প্রবাসীদের কাছ থেকে প্রায় ৬ লাখ টাকা চাঁদা নিয়ে ভাগাভাগি ও আত্মসাৎ করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করা প্রয়োজন। একইভাবে আলিম পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ মাদ্রাসার ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
অধ্যক্ষ হুমায়ুন নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় সাক্ষর দেখিয়ে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন এমন অভিযোগও করা হয়েছে লিখিত আবেদনে। অভিযোগকারীদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। এ অবস্থায় মাদ্রাসার নিয়োগ সংক্রান্ত নথিপত্র, এমপিওভুক্তির কাগজপত্র, আর্থিক হিসাব, ব্যাংক হিসাব,উপস্থিত হাজিরা খাতা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নথি যাচাই করে অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মাধবপুর ও গালিমপুর মোহাম্মদিয়া আলিম মাদ্রাসার অভিভাবকরা।