1. nerobtuner@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  2. omarfarukbd12@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  3. info@shamolbangla.net : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
মসজিদে তালা মারার হুমকি নিউজ করায় সাংবাদিকের ওপর হামলা  - দৈনিক শ্যামল বাংলা
বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৫৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
মসজিদে তালা মারার হুমকি নিউজ করায় সাংবাদিকের ওপর হামলা  মাগুরায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২ মোটরসাইকেল  আরোহী নিহত, আহত- ১ নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ঘুম থেকে উঠে শিশুর নিথর দেহ, হত্যার অভিযোগ বাবা-মায়ের পরস্পরের বিরুদ্ধে  বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাগুরায় বৃক্ষরোপণ অভিযান, বৃক্ষ ও ফল মেলার উদ্বো রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে রোগ প্রতিরোধই সরকারের মূল লক্ষ্য : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট আজ মাগুরায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে ২ টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা  মাগুরায় নানা আয়োজনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

মসজিদে তালা মারার হুমকি নিউজ করায় সাংবাদিকের ওপর হামলা 

টঙ্গী প্রতিনিধি, গাজীপুর
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
  • ২ বার

গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানার ৫২ নং ওয়ার্ডের গুটিয়া গ্রামের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটিতে স্থান না পেয়ে মসজিদে তালা মারার হুমকি দিয়েছিলেন জালাল নামের এক ব্যক্তি। ওই ঘটনায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে থানায় সাধারাণ ডায়েরি (জিডি) ও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন সাংবাদিক শরীফুল ইসলাম। জিডি ও নিউজের কারনে জালালসহ তার লোকজন একাধিকবার হত্যার হুমকি দিয়েছিল শরীফ ও তার বাবাকে। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় হত্যার উদ্দেশ্যে শরীফ ও তার বাবার ওপর হামলা চালায় জালাল এবং তার লোকজন।

হামলার শিকার শরীফুল ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকই জালাল এলাকায় দখল বাণিজ্য ও চাঁদাবাজি করে আসছে। সাধারণ মানুষকে আওয়ামী লীগ নাম দিয়ে হয়রানী করছে। সম্প্রতি কমিটিতে সভাপতি পদ না দিলে মসজিদে তালা মারার হুমকি দেয় সে। ওই ঘটনায় আমি জিডি করি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের ব্যবস্থা করি। জিডি ও নিউজ করায় ১০ লাখ টাকা খরচ হলেও আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল জালাল।

 

শরীফুল বলেন, কিছুদিন চুপ থাকলেও বুধবার আমার এবং আমার বাবার ওপর হামলা চালায় জালাল এবং তার ভাই ইব্রাহিম ও খোকন। বাম চোখে আঘাতের কারনে ঝাপসা দেখছি। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের কারনে রক্তক্ষরণ হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

 

এদিকে হামলার ঘটনায় শরীফুল ইসলাম টঙ্গী পশ্চিম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। শরীফ জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতা বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেছেন। ক্যাম্পাসে থাকতেই বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ছিলেন। পড়া–শোনা শেষে ঢাকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে যোগ দেন বাংলাদেশ প্রতিদিনে। তবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে চাকরি ছেড়ে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন তিনি।

 

হামলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই বেপরোয়া আচরণ করছে জালাল। দলে কোনো পদ না থাকলেও নিজেকে বিএনপি কর্মী দাবি করে এসব অপকর্ম করছে সে। গত ২৫ বছর ধরে গুটিয়া কেন্দ্রীয় মসজিদের কমিটি নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ না থাকলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে কমিটিতে প্রবেশের চেষ্টা করছে জালাল। তবে তার চারিত্রিক সমস্যার কারনে মুসল্লিরা তাকে মানতে নারাজ। গত ৩ জুলাই মসজিদে আহ্বায়ক কমিটির সভা চলাকালে জালাল সেখানে প্রবেশ করে নিজের নাম না থাকায় মুসল্লিদের গালিগালাজ করে এবং নথিপত্র ছুড়ে ফেলে দেয়। এমনকি মমজিদে তালা দেবার হুমকিও দেয় সে। ওই ঘটনায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে গত ১১ জুলাই টঙ্গী পশ্চিম থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

 

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের গাজীপুর জেলার সাবেক সহসভাপতি ও গুটিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা সোলায়মান স্বপন বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকেই জালালের উচ্ছৃঙ্খল আচরণে গ্রামের মানুষ অতিষ্ঠ। জালালের বিষয়ে নানা সময় এলাকার লোকজন তার কাছে অভিযোগ করেছে। মসজিদের কমিটিতে জায়গা না পেয়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরনের অভিযোগও করেছেন এলাকার লোকজন। আইনজীবী পরিচিয় ব্যবহার করে, দলের নাম ভাঙিয়ে এলাকার মানুষদের হয়রানি করা কাম্য নয়। তার কারনে বিএনপির বদনাম হচ্ছে বলেও মনে করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক নির্বাচিত এই যুগ্ম সম্পাদক।

 

জালালের বিরুদ্ধে এর আগেও স্থানীয় গুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক কমিটির সভাপতি পদ পাওয়া নিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগ আছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মোসা. খায়রুন্নেছা বলেন, স্কুলের অভিভাবক কমিটির সভাপতি পদ পেতে যে যে যোগ্যতা প্রয়োজন হয় তা জালালের ছিলো না। তারপরও ৫ আগস্টের পর তিনি জোরপূর্বকভাবে সভাপতি পদ নেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি প্রতিবাদ জানালে ক্ষেপে গিয়ে জালাল তাকে স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে অপবাদ দেয়।

 

চাচার মতই সন্ত্রাসী হবার চেষ্টায় জালাল :

টঙ্গীর গুটিয়া গ্রামের প্রবেশমুখে দাঁড়ালে আজও স্থানীয়দের আলোচনায় ফিরে আসে একটি পরিবারের নাম। কেউ সরাসরি কথা বলতে চান না, আবার কেউ শর্ত দেন—নাম প্রকাশ করা যাবে না। তাদের দাবি, কয়েক দশক ধরে এই পরিবারকে ঘিরে জমি দখল, সহিংসতা, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের কারণে এলাকায় এক ধরনের নীরব আতঙ্কের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের প্রয়াত সদস্য আইয়ুবের উত্থান শুরু হয় নব্বইয়ের দশকে। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা, ভাড়াটে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং জমি দখলের অভিযোগ ছিল এলাকাবাসীর।

 

জানা যায়, আইয়ুবের পুরো পরিবার ছিল ডাকাত। একসময় নরসিংদী বাড়ি ছিল। সেখানে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের কারনে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়। নরসিংদী থেকে ছেড়ে টঙ্গীর গুটিয়াতে বসতি গড়ে। মাছ ধরে বিক্রি করা পেশা হলেও রাতে চলতো ডাকাতি। আইয়ুব ডাকাতির পাশাপাশি মাদক ব্যবসা, অস্ত্র ব্যবসা, ভাড়ায় মানুষ খুন এবং অন্যের জমি দখলের মতো অপরাধে জড়িত ছিল। অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িয়ে একসময় হয়ে উঠে টঙ্গীর শীর্ষ সন্ত্রাসী।

 

আইয়ুব শীর্ষ সন্ত্রাসী হয়ে উঠার পর থেকে তার পুরো পরিবার হয়ে যায় বেপরোয়া। অন্যের জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করে ফেলা, যাকে যখন প্রয়োজন ধরে নিয়ে হাত-পা ভেঙে ফেলা, প্রয়োজনে মেরা ফেলা সবই যেন হয়ে ওঠে ডাল-ভাত। সন্ত্রাসী আইয়ুব হয়ে উঠে আইয়ুব খান। তার ভয়ে এলাকার কেউ কোনোদিন কথার বলার সাহস করেনি। হঠাৎ করে এলাকার লোকজনের ও সরকারি খাস জমি দখল করে প্রায় অর্ধশত বিঘা জমির ওপর তৈরি করে দিঘি। দিঘির জমি দখলের পর কাউকে নাম মাত্র মূল্য দিলেও অনেকের সেটাও জোটেনি। বিষয়টি নিয়ে এলাকার লোকজন ক্ষুব্ধ হলেও প্রতিবাদ করার কারও সাহস ছিল না।

 

এদিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ২০০৪ সালে সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হয় শীর্ষ সন্ত্রাসী আইয়ুব। পরে লাশ পাওয়া যায় তার দখল করা দিঘির পাশে। ওই ঘটনায় আইয়ুবের পরিবার মামলা করে। কোনো প্রত্যক্ষদর্শী না থাকলেও আসামি করা হয় এলাকার নিরিহ লোকদের। যাদের জমি দখল করা হয়েছিল তাদেরকেই আবার মামলা দিয়ে হয়রানী করা হয়।

 

ওই মামলায় আপষ করতে মোটা অংকের টাকা দাবি করে আইয়ুবের পরিবার। নিরিহ লোকজন হয়রানী থেকে বাঁচতে প্রত্যেকেই জমি বিক্রি করে টাকা দেয়। পরবর্তীতে টাকা নিয়ে আপোষের মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তি করে আইয়ুবের পরিবার। তবে আইয়ুব খুন হওয়ার ২ মাস পর সুযোগ বুঝে গভীর রাতে হামলা করে গ্রামের দেলোয়ার, নজীব আলী ও তার ছেলেকে খুন করে আইয়ুবের পরিবারের লোকজন। ওই ঘটনায় মামলা হলেও আওয়ামী লীগের প্রভাবখাটিয়ে ২০০৯ সালে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়ায় আদালতে।

 

দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় তিনজনকে খুনের ঘটনায় কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি নিহতদের পরিবারের সদস্যরা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিষয়টি আলোচনায় এলেও গ্রামের দীর্ঘদিনের সহাবস্থানের চিন্তা করে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এখনো। যদিও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা চান ন্যায় বিচার ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ।

 

এদিকে আইয়ুবের ভাতিজা জালালকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসা, চাঁদাবাজি, জমি দখল, গুলি করে খুন করার ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ এলাকাবাসীর। কারও সঙ্গে সামান্য কথা কাটাকাটি হলেও গুলি করার হুমকি দেয় সন্ত্রাসী জালাল। আইয়ুবের পরিবার আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ৫ আগস্টের পর থেকে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে প্রচার করতে থাকে জালাল।

 

তবে জানতে চাইলে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন অভিযুক্ত জালাল। তার দাবি এসব মিথ্যা অভিযোগ।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় sweb.net