ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ কোনো দেশ অংশ নিলে তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে সতর্ক করেছে তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে ইরানের অর্থনীতিকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার নতুন উদ্যোগে মিত্র দেশগুলোকে যুক্ত করার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ প্রায় ছয় মাসে গড়াতে যাচ্ছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজাই শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ‘সব দেশকে আমরা জানিয়ে দিচ্ছি—যুক্তরাষ্ট্রের চালানো অর্থনৈতিক যুদ্ধে যোগ দেবেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপে যে কোনো দেশ অংশ নিলে তাকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।’
রেজাই হুঁশিয়ার করে বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো যদি যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজেদের ‘দূরে সরিয়ে না নেয়’, তাহলে ইরান তাদের স্বার্থের ওপর ‘আঘাত হানবে’।
রেজাই জোর দিয়ে বলেন, চলমান যুদ্ধে ইরানের হাতে এখনো বেশ কিছু কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো কোনো মার্কিন অর্থনৈতিক স্বার্থে হামলা চালাইনি।”
তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ইরান শুধু সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তাহলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হবে।
রেজাই বলেন, ‘ইরানের আশপাশে এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তারা যদি আমাদের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তাহলে আমরা এসব প্রতিষ্ঠানে হামলা চালাব।’
ট্রাম্প যদি ‘কোনো পদক্ষেপ নেন’, তাহলে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত ‘ভূমিকম্পের মতো’ হবে বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি।
ইরানের অর্থনীতিকে বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগে অন্যান্য দেশকেও যুক্ত করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ক্ষেত্রে ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার চীনকেও এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
তবে চীন এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছে। বেইজিংয়ের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের সমাধান করবে না।
এদিকে ইরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) মঙ্গলবার জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তেহরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করা হচ্ছে।