পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাইফা সাইয়ারা খুবই শান্ত, ভদ্র ও বিনয়ী একটি মেয়ে।সে খুব কম কথা বলে, লাজুক।একজন শিক্ষার্থী হিসেবে সে সবসময়ই প্রথম সারির—নিয়মিত,পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল।
তার হাতের লেখা যেমন অসাধারণ,তেমনি বাচনভঙ্গিও চমৎকার।আবৃত্তিতে রয়েছে স্বাচ্ছন্দ্য, আর অঙ্কনে তার দক্ষতা সত্যিই প্রশংসনীয়। পড়াশোনা,সহশিক্ষা কার্যক্রম ও সৃজনশীলতা—সব ক্ষেত্রেই সে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন কথাগুলো বলেছেন লাকসাম শিশু নিকেতন কিন্ডার গার্টেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক
মোসলেহ উদ্দিন ভুঁইয়া নোমান।
১২ অক্টোবর সোমবার দুপুরে শিশু নিকেতন কিন্ডার গার্টেন স্কুলে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে লাকসাম উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা।
চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাইফা সাইয়ারা।এ অর্জনে পুরো উপজেলায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন।
চিত্র অংকনে প্রথম স্থান অর্জনের বিষয়টি সোমবার সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মানসী পাল। তিনি জানান, জাতীয় কন্যা ও শিশু দিবসে শিশু শিক্ষার্থীদের চিত্র অংকন প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে অর্জনকারীদের পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা।
শিশু নাইফা সাইয়ারা লাকসাম শিশু নিকেতন কিন্ডার গার্টেন স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে লাকসাম পৌর শহরের পশ্চিমগাও পুরান বাজার এলাকার প্রবাসী সাখাওয়াত হোসেনের মেয়ে। নাইফা সাইয়ারা মা সৈয়দা মাহমুদা আক্তার তিনি একজন গৃহিনী।
মেয়ের এই কৃতিত্বে উচ্ছ্বসিত মা সৈয়দা মাহমুদা আক্তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন,“মা-বাবা হিসেবে আমাদের এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমার মেয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি নাচে গানের জন্য পাগল। সময়ের সঙ্গে চিত্র অংকনের প্রতি তৈরি হয়েছে ভালোবাসা। সেই ভালোবাসা থেকেই সাফল্য অর্জন। তিনি আরও বলেন,নাইফা সাইয়ারা’কে
সবাই আদর করেন।স্কুলের শিক্ষক ও সহযোগী বান্ধবীরা তাকে খুব পছন্দ করে। বর্তমানে সমাজ ও নিজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখে মনে ভয় আসে স্কুলে পাঠালে। সবসময় চিন্তায় থাকি কখন সন্তান বাসায় আসবে।প্রত্যেক নারী-পুরুষের প্রধান স্বপ্নগুলো থাকে তার সন্তানকে ঘিরে। সন্তানের জীবন, ভবিষ্যৎ ও সাফল্য নিয়ে সব সময়ই বাবা-মা চিন্তা করেন। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দোয়া করে যান সন্তানের সুন্দর জীবন ও সাফল্যের জন্য। আমাদের এক ছেলে এক মেয়ে, ছেলে ১০ শ্রেণির শিক্ষার্থী।সন্তানদের ভবিষ্যতে ভালো মানুষ হওয়ার পাশাপাশি সংস্কৃতি ও শিক্ষার আলোয় নিজেদের সমৃদ্ধ করতে পারে,তাই সকলের কাছে দোয়া চাই।”