1. nerobtuner@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  2. omarfarukbd12@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  3. info@shamolbangla.net : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
ভাঙ্গুড়ায় দুই নবজাতকের মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ - দৈনিক শ্যামল বাংলা
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
ভাঙ্গুড়ায় দুই নবজাতকের মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ লাকসামের সেরা কন্যা শিশু অক্ষরা সাহা, নৃত্যে পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন  ভালোবাসা থেকেই সাফল্য অর্জন শিশু নাইফা সাইয়ারা লাকসামে চিত্র অংকনে প্রথম স্থান অর্জন পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাগুরায় শ্রীপুর উপজেলায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত  নকলায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ বিষয়ক প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত নকলায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত সেবার মান উন্নয়ন ও সচ্চতায় এগিয়ে যাচ্ছে নোয়াখালী পাসপোর্ট অফিস ইউপি নির্বাচনের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা স্ত্রীকে চার টুকরো করে ব্যাগে ভরে রাখেন স্বামী, নেপথ্যে কী? সৌদি আরবের বিমান বোমা হামলায় কুমিল্লার মাওলানা নাসরুল্লাহ মৃত্যু

ভাঙ্গুড়ায় দুই নবজাতকের মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ

মোঃ: আরিফুল ইসলাম ভাঙ্গুড়া (পাবনা)
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১ বার

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় বেসরকারি হাসপাতালে সন্তান প্রসবের পর দুই নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা। তাঁদের দাবি, সময়মতো চিকিৎসক না পাওয়া এবং সিজারিয়ান অপারেশনে বিলম্বের কারণে সন্তানদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি। গত শনিবার (১০ অক্টোবর) শরৎনগরে অবস্থিত ভাঙ্গুড়া হেলথ কেয়ার লিমিটেড হাসপাতালে এ দুটি ঘটনা ঘটে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায় অস্বীকার করেছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার।

দুটি পরিবারের জন্যই দিনটি ছিল নতুন অতিথিকে বরণ করে নেওয়ার। কিন্তু সন্তান জন্মের পরপরই সেই আনন্দ রূপ নেয় গভীর শোকে। নবজাতকদের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন স্বজনরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রসবকালীন সংকটের সময় যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়নি। এ ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসাব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

প্রথম ঘটনাটি ঘটে উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের মাসুদ রানা (৪০) ও তাঁর স্ত্রী অন্তরা খাতুনের (২৫) ক্ষেত্রে। প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়। প্রায় দশ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অন্তরার শনিবার ভোরে প্রসবব্যথা শুরু হলে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তাঁকে উপজেলার নাজিম উদ্দিন হাসপাতালে নেওয়া হয়।

 

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে আলট্রাসনোগ্রামসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মা ও গর্ভের সন্তান সুস্থ আছেন বলে জানান। তবে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য চিকিৎসক না থাকায় দেরি হবে জানানো হলে সকাল ১০টার দিকে অন্তরাকে শরৎনগরের ভাঙ্গুড়া হেলথ কেয়ার লিমিটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়।

 

স্বজনদের অভিযোগ, সেখানে পৌঁছে সিজারিয়ান অপারেশনের কথা বললে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, চিকিৎসক বাইরে আছেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই চলে আসবেন। ততক্ষণ স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করতে বলা হয়। এভাবে প্রায় চার ঘণ্টা অপেক্ষার পর নার্সের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রসব করানো হয় বলে দাবি তাঁদের।

 

সন্তান জন্মের পর নবজাতকের কোনো সাড়া না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। পরে শিশুটিকে দ্রুত অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলে তাঁরা ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক উম্মে হুরাইরা নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন।

 

সন্তান হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন অন্তরা খাতুন। তাঁর অভিযোগ, সময়মতো চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না পাওয়ায় সন্তানকে হারাতে হয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

 

শিশুটির চাচা কামাল হোসেনও এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, প্রসবের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চিকিৎসক না পাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

 

এ বিষয়ে চিকিৎসক উম্মে হুরাইরা নবজাতকটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তাঁর কোনো বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

একই দিনে উপজেলার চৌবাড়িয়া দক্ষিণপাড়ার তারেক আলীর স্ত্রী মুসলিমা আক্তার মনাকেও ভাঙ্গুড়া হেলথ কেয়ার লিমিটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রসবব্যথা নিয়ে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

 

স্বজনদের মতে, ভর্তির পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর শরীরে রক্ত দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানালে তাঁরা দ্রুত রক্তের ব্যবস্থা করেন। এরপরও সিজারিয়ান অপারেশনের চিকিৎসক উপস্থিত না থাকায় অপেক্ষা করতে হয় বলে অভিযোগ তাঁদের। চিকিৎসক কিছুক্ষণের মধ্যে আসবেন এমন আশ্বাসে প্রায় তিন ঘণ্টা পার হয়ে যায় বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।

 

পরে চিকিৎসক এসে অস্ত্রোপচার করেন। কিন্তু নবজাতকের অবস্থা ভালো না থাকায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাবনা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পথে শিশুটির মৃত্যু হয় বলে জানান স্বজনরা।

দ্বিতীয় শিশুটির পরিবারের সদস্যরাও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, প্রসবের সময় যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে নবজাতককে বাঁচানোর সুযোগ তৈরি হতে পারত।

 

দ্বিতীয় নবজাতকের চাচা মাসুদও এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তির পর রক্তের ব্যবস্থা করেও সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়নি। চিকিৎসকের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর অস্ত্রোপচার করা হলেও শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহি দাবি করেন তিনি।

 

এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া হেলথ কেয়ার লিমিটেড হাসপাতালের পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার তাঁদের প্রতিষ্ঠানের দায় অস্বীকার করে বলেন, তার হসপিটালে নিয়ম অনুযায়ী নরমাল ডেলিভারি এবং সিজারিয়ান অপারেশন করানো হয়েছিল।

 

ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: হালিমা খানম বলেন, রোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাবনা সিভিল সার্জন মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টা সম্পর্কে আমি অবগত নয়। আপনার কাছ থেকেই প্রথম জানতে পারলাম। হসপিটাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পূর্ণ তদন্তের মাধ্যমে পরবর্তীব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

প্রসবকালীন জটিলতায় মা ও নবজাতকের জীবন রক্ষায় সময়মতো চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার এবং জরুরি নবজাতকসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভাঙ্গুড়ায় একই দিনে দুই নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসাব্যবস্থা, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের উপস্থিতি এবং রোগীদের চিকিৎসার নথি পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় sweb.net