1. nerobtuner@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  2. omarfarukbd12@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  3. info@shamolbangla.net : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
নবাব সিরাজুদ্দৌলা ইতিহাসের এক মহানায়ক - দৈনিক শ্যামল বাংলা
সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
একদিন আগেই হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর : নারায়ণগঞ্জ ভূমি অফিসের অনিয়মে ক্ষুব্ধ ভূমি প্রতিমন্ত্রী নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুরে সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, আটক ৩  নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ডিবি পরিচয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাকে গাড়িতে তুলে ১২ লাখ টাকা ছিনতাই  সোনারগাঁয়ে চৈতী কম্পোজিট কে পৌনে ১ কোটি টাকা জরিমানা জাতীয় নবম বেতন স্কেল ২০২৬ অনুমোদন, দুই বছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন ছাত্রদলের পদবঞ্চিত ও পদপ্রাপ্তদের সংঘর্ষ, আহত ২ শেরপুরে ৫০ লাখ টাকার চেক মামলায় ইদ্রিস কোম্পানির সাবিক ডিএমডির ১ বছরের কারাদন্ড বাসসের নেতৃত্বে কাদের গনি চৌধুরী, সিএমইউজের অভিনন্দন চোরাচালান, মাদক ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বিজিবির প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান বাড়ৈখালিতে এতিম শিশুদের ওপর নির্যাতন: মিষ্টি জামালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

নবাব সিরাজুদ্দৌলা ইতিহাসের এক মহানায়ক

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২০
  • ৪২৪ বার

সৈয়দ আবদাল আহমেদ :
নবাব সিরাজুদ্দৌলা ইতিহাসের এক মহানায়ক। ইতিহাস আজ তাঁকে গৌরবের আসনে বসিয়েছে। ইতিহাসে তিনি আপন মহিমায় ভাস্বর। প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামকে প্রশ্ন করেছিলাম, ইতিহাস কি শুধু বিজয়ী আর রাজার কথাই বলে? তিনি বললেন- ‘একেবারেই না, বস্তুনিষ্ট বিশ্লেষণই ইতিহাস। আর বস্তুনিষ্ট ইতিহাসে বিজয়ী ও বিজিতকে এক পাল্লায় ওজন করা হয়।’ পলাশীর যুদ্ধে নবাব পরাজিত হয়েছিলেন ঠিক। কিন্তু ইতিহাস সেই পরাজয়কে মহিমান্বিত করেই তুলে ধরেছে। অন্যদিকে ওই যুদ্ধে যারা বিজয়ী হয়েছিল, ইংরেজরা অর্থাৎ লর্ড ক্লাইভ এবং তার এদেশীয় দোসর মীরজাফর, জগৎ শেঠ, উমিচাঁদ, ঘষেটি বেগমরা ইতিহাসের খলনায়ক হিসেবেই চিন্হিত হয়েছেন। সিরাজুদ্দৌলার মৃত্যু ছিল বীরের। আর ওই বিশ্বাসঘাতকদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। ক্লাইভ আত্মহত্যা করেছেন। তার কবরটির পর্যন্ত হদিস নেই। নিজ দেশ বৃটেনে নিজের লোকেরাই আজ তার মূর্তি ভাঙছে। মীরজাফরের মৃত্যু হয়েছে কুষ্ঠ রোগে। ইতিহাস তাদের ক্ষমা করেনি। আজ ২৩ জুন পলাশী দিবসে বাংলার শেষ নবাব সিরাজুদ্দৌলাকে স্মরণ এবং তাঁর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতেই এ লেখা। আমরা সবাই জানি পলাশীর আম্রকাননে এদিনটিতে বৃহত্তর বাংলার ভাগ্যাকাশে বিপর্যয় নেমে এসেছিল। পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজুদ্দৌলার পরাজয়ে অস্তমিত হয় স্বাধীন বাংলার শেষ সূর্য। সেই পরাজয় ছিল এক গভীর ষড়যন্ত্রের ফল। ১৭৫৬ সালে নবাব সিরাজুদ্দৌলা ক্ষমতা গ্রহনের পর ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর সাথে তার বিরোধ শুরু হয়। এ বিরোধের কারন ওই ইংরেজ কোম্পানির অন্যায় চাওয়া-পাওয়া ও অবৈধ হস্তক্ষেপকে তিনি বরদাশত করেননি। তাই তারা ষড়যন্ত্রে মেতে উঠে। একদিকে মীরজাফর, জগৎ শেঠ, উমিচাঁদ ও ঘষেটি বেগমকে নিয়ে প্রাসাদ ষড়যন্ত্র, অন্যদিকে যুদ্ধের অজুহাত সৃষ্টির জন্য কলকাতায় ‘অন্ধকূপ হত্যার’ রটনা। এরপর যুদ্ধ এবং ইংরেজ কোম্পানির ক্ষমতা দখল। পরবর্তীতে প্রায় দুশো বছরের ইংরেজ শাসন। কিন্তু আজ গবেষণায় উঠে এসেছে প্রকৃত ইতিহাস। ইংরেজরা নবাব সিরাজুদ্দৌলাকে কলংকিত করতে ভাড়াটে লেখক ও বুদ্ধিজীবী দিয়ে যে বই লিখিয়েছে এবং ইতিহাসের বিকৃতি ঘটিয়েছে তা আজ এক এক করে গবেষণায় উঠে আসছে। বেরিয়ে আসছে সেই মিথ্যাচারের কাহিনি। অক্ষয় কুমার মিত্রের ‘সিরাজুদ্দৌলা’ নামক গবেষণামূলক গ্রন্হে প্রমান করে দেখানো হয়েছে যে, ইংরেজদের সমর্থন সহযোগিতায় রচিত হয়েছিল পলাশীর কিছু বিকৃত ইতিহাস। নবীনচন্দ্র সেনকে এজন্যে কঠোর ভাষায় ভর্ৎসনা করা হয়। এতে বলা হয়,মীরজাফর জগৎ শেঠদের গোপন আঁতাত নবাবকে পরাজিত করে। ইংরেজ ও তাদের দোসরদের হাত থেকে বাংলা রক্ষা করতে গিয়েই জীবন উৎসর্গ করেন নবাব সিরাজুদ্দৌলা। দেশপ্রেম আর বীরত্বের জন্য ইতিহাসে তিনি এক উজ্জ্বল নাম। সংগ্রামীদের জন্য তিনি এখনও অনন্য প্রেরণা। মানুষ তাঁকে শ্রদ্ধা ভালোবাসায় স্মরণ করে। কলকাতার সেই অন্ধকূপ হত্যার কাহিনি যে আষাঢ়ে গল্প ছিল তাও গবেষণায় উঠে এসেছে। এ গল্প ফাঁদা হয়েছিল জেপানিয়াহ হলওয়েল নামের এক ধূর্ত ইংরেজকে দিয়ে। সে রটনা করে ১৪৬ জন ইংরেজকে কলকাতার ১৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪ ফুট প্রস্হের এক গর্তে রেখে শ্বাসরুদ্ধ করে মারা হয়েছে নবাবের চক্রান্তে। শুধু ভাগ্যক্রমে হলওয়েলই বেঁচে যায়। নবাবকে কাবু করতে এটা যে ফাঁদ এবং পুরোপুরি মিথ্যা এক কাহিনি ছিল তা প্রমান করে দিয়েছেন ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদার ও বৃটিশ পন্ডিত জে এইচ লিটল। An Advanced History of India বইয়ে রমেশচন্দ্র মজুমদার প্রমান দেখিয়ে বলেন,কলকাতার সেই ব্ল্যাকহোল স্টোরি পুরোপুরি মিথ্যা। আর The Blak Hole – The Question of Holwells veracity গ্রন্হে জে এইচ লিটল লিখেন,এটা ছিল বড় ধরনের এক ধোঁকা।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় sweb.net