1. nerobtuner@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  2. omarfarukbd12@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  3. info@shamolbangla.net : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিহাস রচনায় বাংলাদেশ - দৈনিক শ্যামল বাংলা
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে: স্পিকার লংমার্চ করে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা বরদাশত করা হবে না: এ্যানি মাগুরার শ্রীপুরে মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী র‍্যালি অনুষ্ঠিত সৌদির দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় ঝরল ২ প্রাণ, আহত দুই বাংলাদেশি মাগুরায় যুবদল নেতা শাকের হত্যায় মামলা দায়ের, আটক-২ মাগুরায় নানা আয়োজনে শ্রীপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের এইচ এস সি ১৯৮৬ ব্যাচের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত রাঙ্গাবালীতে মৎস্যজীবী দলের কমিটি গঠন সভাপতি গনি, সাধারণ সম্পাদক রাকিব ইনসাফ হাউজিং অ্যান্ড ডেভেলপার্সের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এমদাদুল হক মামুন, এমডি আক্তার হোসেন আইন পেশায় প্রবেশের বয়সসীমা নিয়ে কী হচ্ছে? সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলা, দুই বিদেশি নাগরিক নিহত

যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিহাস রচনায় বাংলাদেশ

স্বপ্নের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল

শেখ দিদারুল ইসলাম, চট্টগ্রাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৮ অক্টোবর, ২০২১
  • ৪৮৬ বার

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে তৈরি হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল বা সুড়ঙ্গপথ এটা স্বপ্ন নয়, সত্যি। টানেলের দ্বিতীয় চ্যানেল খুলে দেওয়া হয় শুক্রবার। বাংলাদেশের বানিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামও চীনের সাংহাইয়ের মতো ওয়ান সিটি টু টাউনে পরিণত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে । ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর এ মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানেলের মূল খননকাজ উদ্বোধন করেন। নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নে চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি ও চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। টানেলের প্রকল্প পরিচালক হারুনুর রশিদ চৌধুরী বলেন, চীনের সুদক্ষ প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে কর্ণফুলী তলদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের নির্মাণকাজ। লকডাউন পরিস্থিতির মধ্যেও টানেল নির্মাণের কাজ বন্ধ ছিলনা। তিনি বলেন, গত বছরের নভেম্বর মাসেই টানেলের পতেঙ্গা থেকে আনোয়ারা পর্যন্ত প্রথম টিউব স্থাপন কাজ সম্পন্ন হয়, যা গত বছরের ডিসেম্বর মাসে নদীর তলদেশে টিবিএম মেশিনের মাধ্যমে বোরিং কার্যক্রম শুরু হয়। দ্বিতীয় টিউবের কাজও প্রায় শেষ। দুটি টিউবে বাকি থাকবে শুধু রাস্তা তৈরি ও অন্যান্য কাজ। তিনি বলেন, এই টানেল দিয়ে যান চলাচল শুরু হলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা কক্সবাজার ও দক্ষিণ চট্টগ্রামগামী যানবাহনকে আর চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশ করতে হবে না। সিটি আউটার রিং রোড হয়ে টানেলের মাধ্যমে অতি অল্প সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। এতে চট্টগ্রাম শহরে যানবাহনের চাপ কমে যাবে। অবশ্য এই প্রকল্প বড় ভূমিকা রাখবে কক্সবাজারের মহেশখালীতে গভীর সমুদ্রবন্দর, আনোয়ারা ও মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু হওয়ার পর। কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের আরেকটি বিশেষ দিক হলো, এ প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়াতে হয়নি। দেশে বড় প্রকল্পগুলোতে দফায় দফায় মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। টানেল নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ে ঋণ হিসেবে চীনের এক্সিম ব্যাংক দিচ্ছে ৫ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা। অবশিষ্ট অর্থের জোগান হয়েছে সরকারি তহবিল থেকে। প্রকল্প কাজের বিবরণে দেখা যায়, মূল টানেলের দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৩২ কিলোমিটার। এর মধ্যে টানেলের প্রতিটি সুড়ঙ্গের দৈর্ঘ্য ২ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার। দুই সুড়ঙ্গে দুটি করে মোট চারটি লেন থাকবে। মূল টানেলের সঙ্গে পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্তে ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক থাকবে। আর আনোয়ারা প্রান্তে রয়েছে ৭২৭ মিটার দীর্ঘ উড়াল সেতু। চট্টগ্রামকে দুভাগে বিভক্ত করেছে কর্ণফুলী নদী। একভাগ নগরীর পতেঙ্গায় অপরভাগ আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলা কিন্তু টানেল নির্মাণ শুরুর পর থেকে দুই পাড়ে শুরু হয়েছে উন্নয়নযজ্ঞ। নগরীর পতেঙ্গায় গড়ে উঠছে চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা টার্মিনাল ও গড়ে তোলা হয়েছে বে-টার্মিনাল। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য সক্ষমতা ক্রমেই বাড়ছে। এই দুই টার্মিনাল চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা পাঁচগুণ বেড়ে যাবে। অন্যদিকে আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলায় রয়েছে কেইপিজেড, সিইউএফএল কাফকো, ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি। সেই সঙ্গে গড়ে উঠছে বিশাল চায়না ইকোনমিক জোন। ফলে ধীরে ধীরে সাংহাইয়ের মতো ওয়ান সিটি টু টাউনে পরিণত হচ্ছে চট্টগ্রাম এমন তথ্য চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুকের।বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণের ফলে পাল্টে যাচ্ছে আনোয়ারা, কর্ণফুলী ও পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের জনপদের চিত্র। অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বলেন, এই টানেল অন্য প্রকল্পের মতো নয়। যন্ত্রের মাধ্যমে খননকাজ করার কারণে এই টানেল নির্মাণ কাজের অগ্রগতি দ্রুত হচ্ছে। এটা একটি উৎসাহব্যঞ্জক ও অনুকরণীয়। তবে খননকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর বাকিটা শেষ করতে যেন বেশি সময় নেওয়া না হয়। আগামী বছরের জুলাইয়ের মধ্যে টানেল যেন যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। কারণ যত আগে প্রকল্প চালু সম্ভব হবে ততই প্রকল্প ব্যয় কমবে।টানেল নির্মাণে সব উপকরণ এবং প্রয়োজনীয় নকশা আসে চীন থেকেই। এই টানেলকে ঘিরে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের উন্নতি আসছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় sweb.net