1. nerobtuner@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  2. omarfarukbd12@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  3. info@shamolbangla.net : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
আল্লাহর আযাবের ধরণ : মুহাম্মদ রুহুল কুদুচ আনোয়ারী আল-আযহারী - দৈনিক শ্যামল বাংলা
শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
বিয়ে নিবন্ধন হবে অনলাইনে, সহজেই জানা যাবে আগের বিয়ের তথ্য: আইনমন্ত্রী মাগুরায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান মনোহরগঞ্জে শিশুর বাবা-মা ঋণের চাপে গ্রাম ছাড়া সেই শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ আটক পরিকল্পিত সন্ত্রাসের প্রতিবাদে বায়েজিদ বোস্তামী থানা মহিলা দলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত  আখতারুজ্জামানকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করেছে ডিবি বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন কক্সবাজারে টঙ্গী রিপোর্টার্স ক্লাবের চার দিনের আনন্দ ভ্রমণ সম্পন্ন জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার মনোহরগঞ্জে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে বাঁচাতে গিয়ে ডাকাতিদের হামলায় শিকার ওমর ফারুক মাগুরায় জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আন্তর্জাতিক প্রবীন দিবস পালিত 

আল্লাহর আযাবের ধরণ : মুহাম্মদ রুহুল কুদুচ আনোয়ারী আল-আযহারী

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২০
  • ৪৪৫ বার

আল্লাহ তা’আলার আযাব ভিন্ন ভিন্ন রুপ ধারণ করে আসে। যেমন পবিত্র কোরআন মজিদের (সূরা আনামের ৬৫ নং আয়াত) বলেন, হে রাসুল (সাঃ) আল্লাহ তায়লা তোমাদের মাথার উপর থেকে অথবা পায়ের নিচ থেকে আযাব দিতে পারেন এবং তোমাদের বিভিন্ন দলের বিভক্ত করে পরস্পর সঙ্গে লড়াই বাধিয়ে দিয়েও সাজা দিতে পারেন। আল্লাহ তা’আলা যখন পাপের দরুন কোন জাতিকে দুনিয়াতেই সাজা দিতে ইচ্ছা করেন তাখন তাদের মাথার উপর থেকে অনাবৃষ্টি ঝড় তোফান, পঙ্গপাল ও অন্যান্য ক্ষতিকারক কীট পতঙ্গ ইত্যাদি নাযিল করে অবাধ্য মানব গোষ্ঠীকে সাজা দিয়ে থাকেন, আবার পায়ের নিচ থেকে ভূমিকম্প, বন্যা, অজন্মা মহামারি ইত্যাদির মাধ্যমে ও শাস্তি বিধান করে। মানুষ মনে করে যে তারা দালান কোঠা তৈরী করেছে, উচু উচু বাধ খাড়া করে প্রকৃতি শক্তিকে বাধা দেয়ার ব্যবস্থা করেছে এবং বৈজ্ঞানিক উপায়ে উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। সুতরাং আল্লাহ তা’আলার আদেশ নিষেধ, মেনে চলা প্রয়োজন কি? অথচ আল্লাহর দেয়া আযাব যখন আসে তখন মানুষের উদ্ভাবিত সকল উপায় উপকরণেই ব্যার্থ প্রমানিত হয়। হঠাৎ এমন সময় বির্পযয় শুরু হয়ে যায় যখন মানুষ সুখের কল্পনায় বিভোর।

সুরা আল আরাফ ৯৭, ৯৮, ৯৯নং আয়াতে বলেন- জন বসতির বাসিন্দাগন কি এ বিষয়ে নিশ্চিত যে রাত্রিকালে যে সময়ে ঘুমিয়ে থাকবে ঠিক সে সময়ে আযাব নাযিল হবে না ? তারা কি এ বিষয়ে নিশ্চিত দিন দুপুরে যখন খেলাধুলায় আমোদ-প্রমোদের বিভোর সে সময়ে আযাব আসবে না। তারা কি আল্লাহর পরিকল্পনা সর্ম্পকে নির্ভয়ে জীবন যাপন করেছে? প্রকৃত পক্ষে ধ্বংসমূখী জাতি আল্লাহর পদক্ষেপ হতে নির্ভয়ে হতে পারে।

পবিত্র কোরআন থেকে জানা যায় যে আল্লাহ তা’আলার তার অবাধ্য বান্দাদেরকে নানান ধরনের আযাব নাযিল করে ধ্বংস করে দিয়েছে। হযরত নূহ (আঃ) এর জাতি যখন কিছুতেই সোজা হল না তখন আল্লাহর নির্দেশে বৃষ্টি বর্ষণ শুরু হয়। মাটি ফেটে পানি বের হতে থাকে। অতপর ঝড় তোফানে এক প্রলয়ংকর সৃষ্টি হয়। ফলে ঈমানদার ব্যাতীত সকলকে ডুবিয়ে দেওয়া হয়।

হযরত সালেহ (আঃ) সামুদ জাতীকে বার বার সতর্ক করেন। কিন্তু তারা সেদিকে কর্ণপাত করার দরকার বোধ করেন নি। তাই আল্লাহর আযাব নাযিলে ফয়সালা করা হয়। পবিত্র কোরআনে সূরা আরাফের ৭৮নং আয়াতে আল্লাহ তায়’লা বলেন- এক বিরাট প্রকম্প তাদের উপর নাযিল হয় এবং তারা উপুর হয়ে নিজ নিজ ঘরে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকে।

হযরত লূত (আঃ) তার জাতিকে অশ্লীল ও জঘন্য যৌন অপরাধ থেকে বিরত রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। তার জাতি হযরত লূত (আঃ) এর সৎ প্রচেষ্ঠার উত্তরে বলেন যা পবিত্র কোরআনে সূরা আরাফের ৮২নং আয়াতে উল্লেখ আছে এদেরকে ভূ-ভাগ থেকে বের করে দাও। তারা অতি পবিত্র জীবন যাপনের পক্ষপাতী। তখন আল্লাহ তা’আলার গজবে ফয়সালা নির্দিষ্ট করে সে জাতিকে হযরত লূত (আঃ) জিবরাঈল (আঃ) মাধ্যমে আল্লাহর নির্দেশে স্বীয় ডানার একটি কোণা মাটিতে দাবাইয়া বহু উপরে উঠালেন এবং পুরা বসতিকে উল্টাইয়া সজোরে নিক্ষেপ করার কারণে সবাই মৃত্যু বরণ করিল।

হযরত শোয়াইব (আঃ) তার পথভ্রষ্ট জাতিকে এক আল্লাহ দাসত্ব স্বীকার করতে আহবান জানান এবং দাড়িপাল্লায় পণ্য সামগ্রী ঠিকভাবে ওজন করতে বলেন। এছাড়া তারা দাঙ্গা হাঙ্গামা, হত্যা ও লুটতারাস থেকে বিরত থাকার জন্য আহবান জানান। কিন্তু তার জাতী হযরত শোয়াইব (আঃ) এর দাবী মেনে নেননি। তখন আল্লাহ তা’আলার আসমানী আযাবের মাধ্যমে বিকট শব্দধারা নিজেদের ঘরে উপুর হয়ে মৃত্যু বরণ করে।

পাপিষ্ট ফেরাউনকে সৎপথে আনার জন্য হযরত মুসা (আঃ) বহুবছর যাবৎ চেষ্টা করেন। কিন্তু ফেরাউন কিছুতেই রাজি হয়নি। তার অন্তরে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি করার জন্য মহান রাব্বুল আলামীন একের পর এক আসমানী আযাব নাযিল করেন। পবিত্র কোরআন শরীফে সূরা আরাফ ১৩৩নং আয়াতে বলেন- তাদের প্রতি আল্লাহ তায়লার ঝড় তোফান পঙ্গপাল, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কীট, ব্যাঙ ও রক্ত ইত্যাদি স্পষ্ট নির্দশনদারা তাদের উপর আযাব নাযিল করেন। অবশেষে সদলবলে ফেরাউনকে লৌহিত সাগরের ডুবিয়ে মারা হল। উলেখ্য যে, মানুষের শিক্ষার জন্য মিশরের যাদুঘরে পাপিষ্ট ফেরাউন শুটকি হয়ে আছে কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে। যাতে মানুষ শিক্ষাগ্রহণ করতে পারে। আল্লাহর আযাব থেকে মুক্তি পেতে হলে ধর্মীয় বিধি-বিধান আদেশ নিষেধ ইত্যাদি পালনের মাধ্যমে মানুষকে সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকার আহবান জানাতে হবে। অন্যথায় ঈমানদার ব্যাক্তিও আল্লাহর আযাব থেকে রেহায় পাবেন না।

লেখক:
খতিব- চকরিয়া থানা সেন্টার জামে মসজিদ।
সভাপতি- বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি চকরিয়া, কক্সবাজার।
সাবেক অধ্যক্ষ- চকরিয়া আনওয়ারুল উলুম কামিল (এম.এ) মাদরাসা।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় sweb.net