1. nerobtuner@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  2. omarfarukbd12@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  3. info@shamolbangla.net : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
মধ্যপ্রাচ্যের নতুন বিন্যাস ও সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের রাজ অভিষেক - দৈনিক শ্যামল বাংলা
মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:০৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
মাগুরায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ পালনে প্রস্তুুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত নবীনগরে অনাবাদি জমিতে আউশ আবাদে নতুন সম্ভাবনা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান: মানবতাবিরোধী অপরাধে ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১১ জনের যাবজ্জীবন পাহাড়িদের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার আহবান পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর খাগড়াছড়ির রামগড়ে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর আটক ভাঙ্গুড়ায় অষ্টমনিষা ইউনিয়ন বিএনপির দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত, নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা মাগুরায় গলায় ফাঁস এবং আগুনে দগ্ধ হয়ে শিবলু খান (৪৫) ১ জনের মৃত্যু  মাগুরায় ২৪-এর শহীদদের স্মরণে ‘গানে গানে জুলাই’ সংগীতানুষ্ঠান নবীনগরে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট (AIII)-জলসিঁড়ি’র উদ্বোধন করলেন সেনাপ্রধান

মধ্যপ্রাচ্যের নতুন বিন্যাস ও সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের রাজ অভিষেক

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২২ মে, ২০২০
  • ৪০৯ বার

| মাসুম খলিলী|
সৌদি আরবের বহুলালোচিত ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের রাজ অভিষেক আসন্ন বলে অনেকে সম্প্রতি বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলেন। বিশেষত তার ৮৪ বছর বয়সি পিতা বাদশাহ সালমানের স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়লে তার জীবিত অবস্থাতেই বিন সালমান বাদশাহ হতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এবং রাষ্ট্রের সর্বশেষ অর্থনৈতিক অবস্থা ও আঞ্চলিক রাজনীতির হিসাব নিকাশ অনেক কিছুকেই পাল্টে দিচ্ছে।

করোনার কারণে একের পর এক খারাপ খবরের মধ্যে সর্বশেষ সংবাদটি হলো: সৌদিদের উপর কর বাড়ছে এবং সরকারি কর্মচারীদের যে আবাসন ভাতা দেয়া হতো, তা কেটে নেওয়া হবে। এক বছর আগের তুলনায় তেলের দাম অর্ধেকের নিচে নেমে যাওয়া আর করোনাভাইরাসের কারণে সব কিছু অচল হয়ে পড়ায় রাজ্যের অর্থনীতিতে এর বড় প্রভাব পড়েছে।

ডি ফ্যাক্টো সৌদি শাসক, ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এর বাবা, ৮৪ বছর বয়সী বাদশাহ সালমান সিংহাসনে থাকলেও ক্রাউন প্রিন্সই রাজ্যের বিদেশ এবং অভ্যন্তরীণ নীতি নিয়ন্ত্রণ করেন। ৩৪ বছর বয়সী এই ক্রাউনপ্রিন্স নানা কারণে আলোচিত সমালোচিত। এর মধ্যে রয়েছে, ব্যয়বহুল বৈদেশিক নীতির ব্যর্থতা, দু:সাহসী সামাজিক সংস্কার এবং রাজ পরিবারের প্রভাবশালী বিরুদ্ধবাদীদের উপর অভিযান।

তার বিদেশ নীতির সমালোচনার মধ্যে রয়েছে, ইতিবাচক ফল ছাড়াই ইয়েমেনের ব্যয়বহুল যুদ্ধ চালিয়ে রাখা, ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়া, সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ড এবং রাশিয়ার সাথে তেলের দাম নিয়ে সৃষ্ট যুদ্ধে পিছু হটা আর ওপেকে এককাধিপত্য হারানো। তার ঘরোয়া নীতির ক্ষেত্রে সৌদি রক্ষণশীল সমাজকে তিনি উদার করতে চাইছেন। এতে শিক্ষা ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা, সামাজিক কাঠামোর মধ্যে তিনি পরিবর্তন আনছেন।

রাজ পরিবারের তরুণদের নিয়ে তিনি সৌদি প্রশাসন ও বিকল্প ক্ষমতার ভরকেন্দ্র তৈরি করেছেন। এ জন্য রক্ষণশীল ইসলামী ভাবধারার লোকজনকে বিদায় করে সেক্যুলার ঘরানার কর্মকর্তাদের প্রশাসনে বসানোর কাজ করছেন। ২০১৭ সালে তাঁর বাবা তাকে ক্রাউন প্রিন্স করেন। এরপর তিনি রাষ্ট্রের সবচেয়ে ধনী এবং শক্তিশালী ব্যক্তিদের আটক করেছেন। গত মার্চে তিনি চাচাত ভাই এবং প্রাক্তন ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফ এবং বাদশাহর ভাই প্রিন্স আহমদ বিন আবদুল আজিজকে অন্তরীণ করেছেন। রাজ পরিবারের উপরে তার কর্তৃত্ব আরও দৃঢ় করার জন্য ক্রাউন প্রিন্স এখন সম্ভবত আরও পদক্ষেপ নিতে পারেন।

তবে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবস্থা তাকে এখন সেভাবে সমর্থন করছে না। সৌদি অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জাদান সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন যে, তার সরকার এই বছর ৫৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ নেবে। এই ঘোষণাটি দেশের ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা বৃদ্ধির প্রতি ইঙ্গিত দেয়।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের শেষদিকে সৌদি আরবের মোট বিদেশি ঋণ ছিল ১৮৩ বিলিয়ন ডলার যা ২০১৮ সালের শেষের দিকে ছিল ১৫১ বিলিয়ন ডলার। এই ঋণ গত পাঁচ বছরে আকাশচুম্বী হয়েছে। ইয়েমেন যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাস আগে ২০১৪ সালের শেষে, সৌদি আরবের বিদেশি ঋণ ১২ বিলিয়ন ডলারের নিচে ছিল। ৫ বছরে এটি ১৫০০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। একই সময়ে রাষ্ট্রের নগদ সম্পদ মজুদও কমে গেছে। ২০১৪ সালের শেষে দেশটির মোট রিজার্ভ সম্পদ ছিল ৭৩২ বিলিয়ন ডলার, কিন্তু ২০১৮ সালের শেষের দিকে তা ৪৯৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। এখন এটি ৩০০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

এই পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, সৌদি আরব অর্থনৈতিকভাবে ক্রমাগতভাবে দুর্বল অবস্থার দিকে চলে যাচ্ছে। এটি দেশটির আঞ্চলিক প্রভাব যেমন কমিয়ে দেবে, তেমনিভাবে অভ্যন্তরীণ এক অভ্যুত্থানের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেবে। আর নভেম্বরের মার্কিন নির্বাচনে বিন সালমানের পৃষ্ঠপোষক হিসাবে পরিচিত ট্রাম্প হেরে গেলে উচ্চাভিলাসি ক্রাউন প্রিন্সের সামনে এগুনোর সুযোগ সম্ভবত আর থাকবে না। এমন কথাও বলা হচ্ছে শেষ পর্যন্ত বিন সালমানের সৌদি বাদশাহ হওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। আর এর আগেই যদি তিনি এই পদে বসে যান তাহলে তিনিই হতে পারেন সৌদি রাজতন্ত্রের শেষ বাদশাহ।

অন্য দিকে ইরানের সাথে আমেরিকান গভীর বলয়ের যে গোপন সমঝোতার ইঙ্গিত আগের লেখার শুরুতে রয়েছে সেটি বাস্তবে রূপ নিতে পারে। আর এতে মধ্যপ্রাচ্যের অবস্থাও পাল্টে যেতে পারে আমূল।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় sweb.net