1. nerobtuner@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  2. omarfarukbd12@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  3. info@shamolbangla.net : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
সাংবাদিকরা নৈতিকতা বিক্রি করেননি - দৈনিক শ্যামল বাংলা
সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
সোনারগাঁয়ে চৈতী কম্পোজিট কে পৌনে ১ কোটি টাকা জরিমানা জাতীয় নবম বেতন স্কেল ২০২৬ অনুমোদন, দুই বছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন ছাত্রদলের পদবঞ্চিত ও পদপ্রাপ্তদের সংঘর্ষ, আহত ২ শেরপুরে ৫০ লাখ টাকার চেক মামলায় ইদ্রিস কোম্পানির সাবিক ডিএমডির ১ বছরের কারাদন্ড বাসসের নেতৃত্বে কাদের গনি চৌধুরী, সিএমইউজের অভিনন্দন চোরাচালান, মাদক ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বিজিবির প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান বাড়ৈখালিতে এতিম শিশুদের ওপর নির্যাতন: মিষ্টি জামালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন মাগুরায় নজরুল বিষয়ক জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন মাগুরায় আলোচিত আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদন্ড হাইকোর্টেও বহাল নোয়াখালীর এসপি এন এম নাসিরুদ্দিন এর নির্দেশনায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ২১ 

সাংবাদিকরা নৈতিকতা বিক্রি করেননি

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২০
  • ৩৬১ বার

এসএম আবুল হোসেন|
উনিশশো উনানব্বই সালের নয় এপ্রিল সকালে অফিসে প্রবেশ করে টেবিলে শোকজ নোটিশ পাই। মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক কন্যা শারমিন রিমা হত্যার সংবাদ মিস করার কারণে। শোকজ নোটিশের সাথে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় একটি ছোট্ট নিউজ লাল কালি দিয়ে মার্ক করা। ইত্তেফাকের নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতার পাঠানো নিউজ। যদিও রাজধানীর বাইরের ঘটনা হওয়ার কারণে সিটি রাউন্ড আপ করার সময় নিউজটি মিস হয়ে যায়। কিন্তু ক্রাইম রিপোর্টার হিসেবে আমি এবং আমার সিনিয়র শংকর দার ওপর পড়ে শাস্তির খরগ। বাংলার বাণীর যুগ্ম সম্পাদক প্রয়াত আজিজ মিসির ভাই কোনো কথাই শুনতে রাজি নয়। ঢাল হিসেবে এগিয়ে এলেন আমাদের বার্তা সম্পাদক প্রয়াত মীর নুরুল ইসলাম ভাই। বললেন অফিসে বসে না থেকে দুজনই বেড়িয়ে পড়। আমি সম্পাদক ( শেখ ফজলুল করিম সেলিম) সাহেবকে ম্যানেজ করবো। শংকর দা এবং আমি দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে মাঠে নেমে পড়ি। আমি ডিবি অফিস এবং শংকর দা সিআইডি অফিস। দুইজন মিলে সে দিন খুনি মনিরের কুকীর্তির ছবিসহ যে রিপোর্ট লিখি পড়ের দিন বাংলার বাণী আউট অব মার্কেট। হকার্স সমিতির অনুরোধে সকাল এগারোটায় আবার পত্রিকা ছেপে মার্কেটে দেওয়া হয়। নিউজ মিস করে শোকজ খাওয়ার জবাব দিয়েছিলাম কাজের মাধ্যমে। সিআইডি পুলিশ মনিরের বিভিন্ন গার্ল ফ্রেন্ডের ছবি সম্বলিত দুটি অ্যালবাম জব্দ করে। আমরা সেই অ্যালবাম দুটি কব্জা করে বাংলার বাণী অফিসে নিয়ে আসি। সব ছবি কপি করে অ্যালবাম আবার সিআইডি অফিসে ফিরিয়ে দেই। বাংলার বাণী তখন হট কেক। দুই লক্ষাধিক পত্রিকা ছাপা হয়। প্রথমে অন্য পত্রিকাগুলো ততটা আমলে না নিলেও পড়ে সকল পত্রিকা নিউজ শুরু করে। মনিরের বাবা ডাক্তার আবুল কাশেম ও মা ডাক্তার মেহেরুননেছা তখন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। অনেক চেষ্টা করেছেন টাকার বিনিময়ে সাংবাদিকদের কিনে নিয়ে ছেলেকে বাঁচানোর। কিন্তু কিন্তু তারা সাংবাদিকদের কিনতে পারেন নি। সাংবাদিকরা নৈতিকতা বিক্রি করেনি। সাংবাদিকদের লেখনী শক্তি মনিরকে ফাঁসিতে ঝোলাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। এরশাদ সরকারের একাধিক মন্ত্রী এসেছিল বাংলার বাণী অফিসে। সিআইডি অফিসে সব ক্রাইম রিপোর্টাররা শপথ নিয়েছিলাম রীমা একজন শহীদ বুদ্ধিজীবীর সন্তান। আমরা তার পরিবারের পাশে থাকবো। বিশেষ করে বাংলার বাণী কতৃপক্ষ ছিল অনঢ়।
১৯৮৯ সালের ৮ই এপ্রিল। খ্যাতনামা ডাক্তার বাবা-মা’র ব্যবসায়ী ছেলে মুনির হোসেন তার সদ্য বিবাহিত স্ত্রী শারমিন রীমা যিনি কি-না একজন শহীদ বুদ্ধিজীবীর সন্তান, তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে।
বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় স্বামীর সাথে চট্টগ্রাম বেড়াতে গিয়ে খুন হন শারমিন রিমা। ৭ই এপ্রিল ঢাকা থেকে রওনা হয়ে যাওয়ার দুদিন পরে ফেরার পথে স্বামী মুনির হোসেন তাকে হত্যা করে নারায়ণগঞ্জের মিজমিজি গ্রামের কাছে ফেলে রেখে আসে।
মনিরের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কারণে সংঘটিত হয় ওই হত্যাকান্ড। রীমা মনিরের কুকীর্তির কথা জেনে যাওয়ায় তাকে পরিকল্পিত ভাবে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়।
দীর্ঘ দিন মামলা চলার পরে নিম্ন আদালতে অপরাধী মুনির হোসেন এবং হত্যাকান্ডে প্ররোচনাদানকারী তার প্রেমিকা হোসনে আরা খুকু দুজনেরই ফাঁসির রায় হলেও উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগের রায়ে খুকুকে খালাস দেয়া হয়।

মুনিরের ফাঁসি কার্যকর হয় হত্যাকান্ডের চার বছর তিন মাস পর ১৯৯৩ সালের ২৭ জুলাই।
পরিচিতি :এস এম আবুল হোসেন, সিনিয়র সাংবাদিক ও লেখক।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় sweb.net