ঢাকা   ০২:১২:২৪ এএম, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
৩১অক্টোবরের লং মার্চ সফল করার লক্ষ্যে মাগুরা শ্রীপুরে জামায়াতের ইসলামীর লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় কোম্পানীগঞ্জ সোসাইটির নতুন কমিটি গঠন সম্পন্ন  নকলায় আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত মাগুরায় ২ মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে  নিহত- ১, আহত -১ খাগড়াছড়িতে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন  মাগুরায় বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুন কুমিল্লায় বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার মাগুরার আলোচিত যুবদল নেতা শাকের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামীকে ৫ দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত চন্দনাইশে এলডিপি’র ২০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে অধ্যাপক ওমর ফারুক গরু চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মেধাবী অপুর গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম

মোঃ ফয়সাল হাসান, পিরোজপুরপ্রতিনিধি।
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৫৫১ বার
  • ৮ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

ঢাকার চানখারপুল থেকে গলায় গামছা ঝুলানো হাটু গাড়া অবস্থায় ঝুলন্ত লাশ মাসুদ মাহাদী অপুর গ্রামের বাড়ীতে এখন শোকের মাতম বইছে।মেধাবি শিক্ষার্থী অপু পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সোহাগদল ইউনিয়নের দক্ষিন পূর্ব সোহাগদল গ্রামের মো. হুমাউন কবিরের বড় ছেলে। পেশায় তার বাবা গ্রামের একজন সামন্য মুদি দোকানদার।সংসারে হুমাউন মিয়ার বড় ছেলে অপু ও আর একটি ছেলে রয়েছে। সে ছেলেও ঢাকা কলেজে অর্নাসে পড়ুশুনা করে। অপুর বাবার সংসারে বাড়তি আয় বলতে তার একটি মুরগী ফার্ম রয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে বাবা হুমাউন কবির ছেলের মৃত্যুর খবর শোনার পরে শোকে বিছানায় অচেতন অবস্থায় পড়ে কেবল অঝোড় ধারায় কাঁদছেন। কিছুতেই তিনি মেনে নিতে পারছেননা ছেলের মৃত্যুর সংবাদ। তার পিতা হুমাউনের দাবী কিছুতেই তার ছেলে আত্মহত্যা করতে পারেনা। ছেলে কারো না কারো প্রতিহিংসার শিকাড় হয়েছে।
অপুর পিতা মো. হুমাউন কবির বিছানায় কন্দনরত অবস্থায় বলেন, তিনি কয়েকদিন পযন্ত ছেলের সাথে মোবাইলে একটু কথাও বলতে পারিনি। ফোন দিলে সে বলে বাবা আমি বি,সিিএস প্রস্তুতি নিচ্ছি। এছাড়া আমার কয়েকটি চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি আছে। তাই অনেক পড়তে হচ্ছে। তাই কথা বলার সময় পাচ্ছিনা। তিনি কন্দনরত অবস্থায় আরো বলেন, সাতাশ সেপ্টম্বর(সোমবার) আমার ছেলের কাছে টাকা পাঠানোরও কথা ছিল। সে টাকা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। বাবারে আমি এখন কার জন্য টাকা পাঠাবো বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন হুমাউন কবির।তিনি বলেন ছেলেদের লেখাপড়ার খরচ বহন করতে গিয়ে আমি একটু ভাল করে ঘর দরজাও উঠাইনি। তাই এই ঝুপড়ি ঘরে থাকছি। আমার কোন কষ্ট হলেও ছেলেকে কখনো তা বুজতে দেয়নি।আমার ছেলে আত্মহত্যা করতেই পারেনা। আমি এর সুষ্ঠ তদন্তর দাবী করছি।
তার আপন চাচা মো. সান্টু মিয়া বলেন, গতকাল দুপুরে ভাতিজা অপুর মৃত্যুর সংবাদ মোবাইলে খবর পান।জানতে পারেন তার ভাতিজা অপু গলায় গামছা পেচিয়ে নাকি আত্মহত্যা করেছে। তিনি বলেন, গ্রামে অপু প্রাইমারি স্কুল জীবন থেকেই একজন মেধাবী শিক্ষর্থী হিসাবে সবার কাছে পরিচিত। এমনকি সে মাদ্রাসাতেও ক্লাসের প্রথম স্থান ধরে রেখে গ্রামে পড়াশুনা শেষ করে ঢাকায় পাড়ি জমান। শুনেছি সেখানেও সবার কাছে সে মেধাবী শিক্ষার্থী হিসাবে পরিচিতি অর্জন করেছে। সংসারে তাদের তেমনকোন অভাব নেই। তার বাবা প্রতিমাসে দুই ছেলের জন্য লেখা পড়ার খরচ পাঠাতেন। সংসারে কোন অভাব থাকলেও তার পিতা ছেলেদেরকে কোনভাবেও অভাব বুজতে দেইনি। তাই তার আত্মহত্যার কোন প্রশ্নই আসেনা। জানতে পেরেছি সে নাকি কলেজে বামপন্থি রাজনীতি করতো এবং ডাকসু নির্বাচনেও নেতৃত্ব দিয়েছে। তার চাচা সান্টু মিয়ারও দাবী তার ভাতিজা কোন ভাবেই আত্মহত্যা করতে পারেনা।
অপুর মামা শহিদুল ইসলাম বলেন, তার ভাগিনা একজন মেধাবী ছাত্র। ছুটিতে বাড়ীতে আসলে সে লেখাপড়া ছাড়া কখনো বাহিরেও আড্ডাবাজি করতোনা। তার লক্ষ ছিল বি,সি,এস ক্যাডার হওয়া। তিনিও তার চাচা সান্টু মিয়ার মত একই দাবী করে বলেন, তার ভাগিনা কলেজে একটু বামপন্থি রাজনীতির অনুসারি ছিল। এছাড়াও কলেজে ডাকসু নির্বাচনে উপর থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। সে কিছুতেই আত্মহত্যা করতে পারেনা। অপু কারো না কারো প্রতিহিংসার শিকাড়।
গ্রামের অপুর মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. মসিউর রহমান বলেন, অপু মাদ্রসা পড়াশুনাকালিন খুবই নম্রভদ্র মেধাবী ছাত্র ছিল। গুরু ভক্তিতে সে ছিল অন্যান্য। তার কোন বাজে আড্ডা বা কোন খারাপ অভ্যাস ছিলনা। তিনি বলেন এমন মেধাবী শিক্ষার্থী কখনো আত্মহত্যা করতে পারেনা। মনে হয় কোথাও কোন একটা সমস্যা হয়েছে।
অপুর চাচা সান্টু মিয়া জানান, ওখান থেকে অপুর পোষ্টমার্টাম শেষে মঙ্গলবার বিকেলের মধ্য তার মরদেহ গ্রামের বাড়ীতে নিয়ে আসা হবে। পরে নিয়মঅনুযায়ি তাকে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হবে।
অপুর পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে ভালো ফল নিয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করা বি,সি,এস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন মাহাদি মাসুদ অপু। বছর খানেকের অক্লান্ত প্রস্তুতির পর সম্প্রতি বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় ভালো ফল করছিলেন তিনি। সোমবার বিকেলে রাজধানীর চানখারপুল থেকে গলায় গামছা ঝুলানো অবস্থায় অপুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে চকবাজার থানা পুলিশ। মাহাদী অপু বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১১-১২ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি মাস্টার দা সূর্যসেন হলে থাকতেন। পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার সোহাগদল ইউনিয়নের শেখপাড়া এলাকার মো.হুমায়ুনের দুই ছেলের মধ্যে অপু বড়।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি