ঢাকা   ০৩:৪৬:১০ পিএম, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
জাপান সফর শেষে দেশে  ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী চার দিনের সফর শেষে টোকিও ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী কুমিল্লায় বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতির ৫৫তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত মাগুরার বিনোদপুরে ১০ম বার্ষিক তাফসীরুল কুরআন মাহফিল ও ইছালে সওয়াব অনুষ্ঠিত মাগুরায় হত্যা মামলায় সাবেক ওসি বিপ্লব কুমার নাথ ও এসআই ইসমাইল কারাগারে খাদ্যের উন্নত মান ও স্বাদে আস্থার নাম ‘সাদিয়া’স কিচেন’ প্রদৃপ্ত প্রকল্পের, ৯০ জেলের মাঝে সুরক্ষা উপকরণ বিতরণ নাঙ্গলকোটের মক্রবপুরে বিএনপি’র দুই পক্ষের বিরোধ প্রকাশ্যে; যুবদলের মিছিলে হামলা,আহত-৯ এনসিপির শিল্প, বাণিজ্য, অর্থ ও পরিকল্পনা উপ-কমিটির সদস্য মনোনীত হলেন চৌদ্দগ্রামের কাজী ফখরুল ইসলাম আহ্ছানিয়া মিশনের উদ্যোগে রংধনু ইউসিএলসিতে বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ–২০২৬ উদযাপন

শৈশবের দুর্গা পূজা।

নেহাল আহমেদ।
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ৫৪০ বার
  • ৫ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

দেবী দুর্গার কাহিনিগুলির মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয় মহিষাসুর বধের কাহিনিটি।আমাদের দেশে সুপ্রাচীনকাল থেকে ধর্মীয় উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগিতে জাতি-ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে শামিল হওয়ার ঐতিহ্য রয়েছে। এমন দৃষ্টান্ত পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে খুব বেশি খুঁজে পাওয়া যাবে না।

ঈদ, পূজা, বড়দিন ও বৌদ্ধ পূর্ণিমার ধর্মীয় আচার ভিন্ন হলেও উৎসবের আনন্দ এক ও অভিন্ন। দুর্গাপূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলেও কালের পরিক্রমায় আজ জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে বিপুলসংখ্যক বাঙালির উৎসবে পরিণত হয়েছে।

শৈশবে আমার অধিকাংশ বন্ধু ছিলো হিন্দু।আমার ক্লাসের বন্ধু, পাড়াপ্রতিবেশীরা সংখ্যায় বেশী থাকার কারনে তাদের ধর্ম সাংস্কৃতির সাথে আমার জানাশোনা বেশ ছিলো।শৈশবের পুজার সাথে এখনকার পুজা কেন যেন মনে হয় পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। হতে পারে সেটা কর্পোরেট যুগের কারনে।সেকাল থেকে একালে বারোয়ারি/সর্বজনীন দুর্গোপুজোয় যে শুধু একটা রূপান্তর এসেছে।

এখনকার বড় পুজো মানেই প্যাণ্ডেলের কারুকার্যে, লাইটিং-এর জাঁকজমকে প্রতিমার রূপ সজ্জায় একে অপরের টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা। ঢুকেছে রাজনীতির নানা প্যাঁচ পয়জারও। এখন গ্রামে সেই সব আবহমান বাংলার ঐতিহ্য সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আর তেমন চোখে পড়ে না। সবখানে যেন এক কৃত্রিমতার ছোঁয়া। পরস্পরের আন্তরিকতার সেই দিনগুলো যেন সদূর অতীত।

সাউন্ড সিস্টেমের বেড়াজালে আবদ্ধ পূজা মণ্ডপ এখন গ্রামবাংলার সেই ঐতিহ্যকে ধারণ করছে না। উন্মাতাল নৃত্য, আর এক ধরনের ভিনদেশী জৌলুস পূজাকে ঘিরে ধরেছে। পূজা মানে বিশ্বাস ও ঈশ্বরের আরাধনা।

শারদীয় দুর্গোৎসব আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরই অংশ। কোনো কোনো জায়গায় এখনো এসব অপসংস্কৃতির ঢেউ আঁচড়ে পড়েনি। কিছু জায়গায় এখনো ঐসব ঐতিহ্যের কিছু কিছু দেখা মেলে। তা দেখে ভালোই লাগে।

সমাজ থেকে সকল অপশক্তি, অসুর শক্তি ও দুর্গতি বিনাশ করে সম্প্রীতি এবং মানব জাতির কল্যাণই বয়ে আনুক শারদীয় দুর্গাপূজা।

আগে পুজা মানেই পুজার বিশেষ সংখ্যা। কবি লেখক দের বিশেষ লেখা গুলো পাওয়া যেত।বিভিন্ন গান মুক্তি পেতো পুজা উপলক্ষে সেই সব হৃদয়গ্রাহী গানের পরিবর্তে মন্দিরে এখন হেভি মেটাল সাউন্ড শোনা যায়।কোথায় যেন হারিয়ে গেছে ধুনুচী নাচ,বিচার গান, কবিগান।যাত্রাপালার সেই সব মঞ্চ।

কলকাতার দুর্গাপুজোর মধ্যে আছে দীর্ঘ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। যে কারণেই এটিকে ইউনেসকোর কালচালার হেরিটেজের তালিকায় এটিকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।

নেহাল আহমেদ।
কবি ও সাংবাদিক।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি