1. nerobtuner@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  2. omarfarukbd12@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  3. info@shamolbangla.net : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
খুটাখালী তলিয়াঘোনায় বাঁধ ভেঙ্গে নোনা পানিতে তলিয়ে গেছে ৯শ কানি জমির ধান - দৈনিক শ্যামল বাংলা
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে: স্পিকার লংমার্চ করে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা বরদাশত করা হবে না: এ্যানি মাগুরার শ্রীপুরে মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী র‍্যালি অনুষ্ঠিত সৌদির দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলায় ঝরল ২ প্রাণ, আহত দুই বাংলাদেশি মাগুরায় যুবদল নেতা শাকের হত্যায় মামলা দায়ের, আটক-২ মাগুরায় নানা আয়োজনে শ্রীপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের এইচ এস সি ১৯৮৬ ব্যাচের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত রাঙ্গাবালীতে মৎস্যজীবী দলের কমিটি গঠন সভাপতি গনি, সাধারণ সম্পাদক রাকিব ইনসাফ হাউজিং অ্যান্ড ডেভেলপার্সের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এমদাদুল হক মামুন, এমডি আক্তার হোসেন আইন পেশায় প্রবেশের বয়সসীমা নিয়ে কী হচ্ছে? সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলা, দুই বিদেশি নাগরিক নিহত

খুটাখালী তলিয়াঘোনায় বাঁধ ভেঙ্গে নোনা পানিতে তলিয়ে গেছে ৯শ কানি জমির ধান

সেলিম উদ্দীন, ঈদগাঁও।
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২২
  • ৩৫৮ বার

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী তলিয়াঘোনায় পাউবো বাঁধ ভেঙে নোনা পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় ৯শ কানি জমির ধান।

গত সোমবার ঘুর্নিঝড় চিত্রাংয়ের প্রবল জোয়ারে পানিতে ইউনিয়নের বহলতলী মৌজার তলিয়াঘোনাস্থ মেম্বার ফখরুল ইসলামের নিয়ন্ত্রাধিন চিংড়ি ঘেরের পলবোট পয়েন্টের বাঁধটি ভেঙে যায়।

এতে পানি ঢুকে প্রায় ৯শ কানি জমির আধাপাকা ধান তলিয়ে যায়। ফলে ডুবে যাওয়া পাকা-আধপাকা ধান নিয়ে বর্তমানে দিশেহারা স্থানীয় ৪ শতাধিক কৃষক।

জানা যায়, গত সোমবার সৃষ্ট ঘুর্নিঝড় চিত্রাংয়ের প্রভাবে অস্বাভাবিকভাবে নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির ফলে ফকরু মেম্বারের চিংড়ি ঘেরের পলবোট পয়েন্টের বাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে নোনা পানি ঢুকতে শুরু করে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ ঐ পয়েন্ট নড়বড়ে অবস্থায় ছিল। ঘের সংশ্লিষ্টদের অনেকবার বলা হয়েছে, তারা নজর দেইনি। এমনকি বাঁধ ভেঙে যাওয়ার তিনদিন অতিবাহিত হলেও বাঁধ সংস্কারে কালক্ষেপন করে। তারা এ ঘটনায় চকরিয়া ইউএনও’র কাছে নালিশী অভিযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা হলেন খুটাখালী ইউনিয়নের মসজিদপাড়া গ্রামের ছাবের আহমদের পুত্র মোঃ শাহজানের (১২ কানি), চেয়ারম্যান পাড়ার মৃত ফজল করিমের পুত্র আবু ছৈয়দের (৩ কানি), কুতুবদিয়া পাড়ার মোস্তাফিজুর রহমানের পুত্র আরিফুল ইসলামের (২ কানি), আবুল কাশেমের পুত্র নুরুল হকের (দেড় কানি), চারিঘোনা গ্রামের আমির মোহাম্মদের পুত্র মোঃ ইসলামের (আড়াইকানি), কুতুবদিয়া পাড়ার মৃত আমির হোসনের পুত্র মোঃ ছৈয়দের (৩ কানি), স্কুলপাড়ার আবদুল কুদ্দুসের পুত্র কামাল উদ্দীনের (৩ কানি), চেয়ারম্যান পাড়ার ছিদ্দিক আহমেদর পুত্র নুরুল হাকিমের (আড়াইকানি), মসজিদপাড়ার আবুল হোসেনের পুত্র আমান উদ্দীনের (২ কানি), বাককুম পাড়ার আবুল কাশেমের পুত্র নুর আহমদের (আড়াইকানি), হাজী পাড়ার মোঃ হোছনের পুত্র শাহাব উদ্দীনের (২ কানি), চেয়ারম্যান পাড়ার মকতুল হোছনের পুত্র মুজিবুর রহমানের (২ কানি), স্কুলপাড়ার নজির আহমদ ফকিরের পুত্র মোঃ ছাবেরের (২ কানি), মসজিদ পাড়ার মমতাজ আহমদের পুত্র মোঃ শাহিনের (১ কানি), স্কুল পাড়ার আবুল কাশেমের পুত্র লুতু মিয়ার (দেড়কানি), মকবুল আহমদের পুত্র আবু ছিদ্দিকের (১২ কানি), মীর আহমদের পুত্র জাফর আলমের (১০ কানি), ফজল করিমের পুত্র মোঃ ছলিমের (২ কানি), শফি আলমের পুত্র কোরবান আলীর (২ কানি) ও আহমদ আলীর পুত্র নেজাম উদ্দীনের (২ কানি)।

স্থানীয় কৃষক মোহাম্মদ কামাল উদ্দীন জানান, তিনি
তলিয়াঘোনায় ৩ কানি জমিতে ধান লাগিয়েছিলেন। ফকরু মেম্বারের চিংড়ি ঘেরের পলবোট ও বাঁধ ভেঙে তাঁর সমস্ত জমির ধান তলিয়ে গেছে। কাঁচা ধানগুলো পাকা হওয়ার আগেই আমার সব শেষ হয়ে গেল।

ইউনিয়নের স্কুল পাড়া গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ শাহজান বলেন, আমার নিজের ১২ কানিসহ প্রায় ৯শ কানি জমির ধান নোনা পানিতে তলিয়ে গেল চোখের পলকে। এ বছর ছেলে সন্তানদের নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করতে হবে।

অভিযুক্ত পাশ্ববর্তী ডুলাহাজারা ইউপি মেম্বার ও চিংড়ি ঘের চাষী ফখরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ঐ চিংড়ি ঘের করে আসছি। বিগত সময়ে এমনতর ঘটনা ঘটেনি। ঘুর্নিঝড় চিত্রাংয়ের প্রভাবে মুলত ঘেরের বেশ কয়েকটি পয়েন্ট ভেঙ্গে নোনা পানি ঢুকেছে। তাৎক্ষনিকভাবে লাখ টাকা ব্যয় করে শ্রমিক দিয়ে ভাঙ্গা বাঁধ সংস্কার করেছি। আমি নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত, ঐ ঘোনায় আমার ৭/৮ কানি ধান তলিয়ে গেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল আওয়াল বলেন, নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির ফলে চিংড়ি ঘেরের পলবোট ও বাঁধ ভেঙে ৫ টি গ্রামের কৃষকের অনেক বিঘা জমির ধান পানিতে ডুবে নষ্ট হয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম নাসিম হোসেন বলেন, খুটাখালীতে বাঁধ ভেঙে ধানি জমি প্লাবিত হওয়ার বিষয়টি কেহ বলেনি, আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। ফলে এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ কেটে যারা চিংড়ি ঘেরের পানি নিষ্কাশন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া জরুরী। যে বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করছে সেটি সরজমিন পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেপি দেওয়ান বলেন, তলিয়াঘোনার বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প। নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁধটি ভেঙে গেছে। আমরা ক্ষতির পরিমাণ ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করব। পরবর্তীতে সরকারি কোন সহযোগিতা এলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় sweb.net