1. nerobtuner@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  2. omarfarukbd12@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  3. info@shamolbangla.net : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
ঠাকুরগাঁওয়ে পীরগঞ্জের নাককাটি ঠাকুরের পুকুরে বিয়ের আগে ভিড় বাড়ে মানুষের - দৈনিক শ্যামল বাংলা
বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:০৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
চন্দনাইশ থানা পুলিশের অভিযানে চোলাই মদ সহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নোয়াখালীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিএনসিসি কুমিল্লা রিজিওনের সদস্যদের প্রশিক্ষণ প্রদান  আনোয়ারায় ভোজনবাড়ী রেস্টুরেন্টকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা  সরকার আমার সাথে মনে হয় নাটক করতেছে– মাগুরায় ক্ষুব্ধ আছিয়ার মা আয়েশা বেগম নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কিনবে টিসিবি শিশু আছিয়া হত্যা: হাইকোর্টের রায় পেছালো শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় আজ নতুন দায়িত্ব পেলেন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন এমপি সরকারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যের সার বিক্রি করায় ডিলারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-কে ১০টি নতুন বাস উপহার দিচ্ছে জসিম উদ্দিন ফাউন্ডেশন

ঠাকুরগাঁওয়ে পীরগঞ্জের নাককাটি ঠাকুরের পুকুরে বিয়ের আগে ভিড় বাড়ে মানুষের

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৪ মে, ২০২৫
  • ৫৭৩ বার

মোঃ মজিবর রহমান শেখ, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ  ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার মিলনপুর গ্রামে বসেছে ২০০ বছরের পুরোনো নাককাটি মেলা। বৈশাখের তৃতীয় ৩ মে শনিবার দিনভর চলে এই লোকজ উৎসব। আয়োজন ঘিরে ছিল হাজারো মানুষের ঢল, নানা পণ্যের বিপণি আর ছিল সেই বিশ্বাসের পুকুর; যার জল ছুঁয়ে মানুষ স্বস্তি খোঁজেন শরীর ও মনের। স্থানীয় শ্রীশ্রী শ্যামসুন্দর গৌড়ীয় মঠ-লস্করা টুপুলীর উদ্যোগে এই বছর ২০০তমবারের মতো মেলার আয়োজন হয়। আয়োজকদের দাবি, একসময় এটি ছিল কেবল ধর্মীয় পূজার আয়োজন। সময়ের সঙ্গে তা রূপ নিয়েছে বৃহৎ লোক উৎসবে। এই মেলার কেন্দ্রবিন্দু এক প্রাচীন পুকুর, যাকে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন ‘নাককাটি ঠাকুরের পুকুর’। জনশ্রুতি আছে, এই পুকুরের পানি শরীরে মাখলে রোগবালাই দূর হয়, মানত করলে পূর্ণ হয় বাসনা। অনেক তরুণ-তরুণী বিয়ের আগে এখানে এসে মানত করেন, কেউ বিশ্বাস করেন, বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাব ও গয়না পেয়ে থাকেন। মেলা ঘিরে বসে দুই শতাধিক দোকান। মাটির খেলনা, বাঁশ-বেতের জিনিস, হস্তশিল্প, পোশাক, গয়না, কসমেটিকস, ঘরোয়া পণ্য—সবই মেলে এখানে। ছিল ২০টির বেশি খাবারের স্টল। শিশুদের আনন্দের জন্য ছিল নাগরদোলা, হানি সিংসহ একাধিক রাইড। মেলায় অংশ নিতে ঠাকুরগাঁও ছাড়াও পঞ্চগড়, নীলফামারী, সৈয়দপুর ও বীরগঞ্জ থেকেও এসেছেন দর্শনার্থীরা। পুকুরের ‘পবিত্র’ জলে ভরসা রেখেছেন অনেকে। পঞ্চগড় থেকে আসা শ্রাবণী রানী বলেন, ‘তিন বছর আগে ছেলের অসুস্থতার সময় এই পুকুরের জল দিয়ে ওর মাথা-মুখ ধুইয়ে দিই। এরপর ধীরে ধীরে সে সুস্থ হয়ে ওঠে। এবার এসেছি কৃতজ্ঞতা জানাতে। আমার বিশ্বাস, এই জলে সত্যিই শুদ্ধির ক্ষমতা আছে।’ সৈয়দপুরের মিতালী রায় বলেন, ‘বিয়ের আগে অনেক টানাপোড়েন ছিল। আসবাব, গয়না—কিছুই ঠিকঠাক ছিল না। এখানে এসে মানত করেছিলাম। অদ্ভুতভাবে পরে সবকিছুই ঠিক হয়ে যায়। এবার আবার এসেছি নতুন করে মানত করতে। মনে শান্তি পাই।’বীরগঞ্জের নেন্দুলা রায় বলেন, ‘প্রতিবছর একবার হলেও এই মেলায় আসি। পুকুরের জল শরীরে মাখলেই একধরনের প্রশান্তি অনুভব করি। শরীরের পুরোনো ব্যথাগুলো যেন হালকা হয়ে আসে। অনেকে অবিশ্বাস করলেও আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি, এই পানিতে আলাদা শক্তি আছে।’ মেলায় আসা মালতী রানী বললেন, ‘এই মেলায় ভালো জিনিস পাওয়া যায়, দামও কম। প্রতিবছর আসি।’ গড়েয়া এলাকার শ্রাবণী বলেন, ‘মেলা উপলক্ষে অনেক আত্মীয়স্বজন আগে থেকে আমাদের বাড়িতে এসেছেন। সবাই মিলে এসেছি মেলায়।’ স্থানীয় মিলনপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদ বলেন, ‘নাককাটি মেলা শুধু একটি লোকজ উৎসব নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই আয়োজন মানুষকে যেমন আনন্দ দেয়, তেমনি আমাদের শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে।’

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় sweb.net