1. nerobtuner@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  2. omarfarukbd12@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  3. info@shamolbangla.net : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে দুর্নীতির রাজত্ব, নেতৃত্বে জাহিদ হোসেন - দৈনিক শ্যামল বাংলা
মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:০০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
আনোয়ারা চাতরী চৌমুহনীতে এসিল্যান্ডের অভিযান, ৩ মামলায় ১১ হাজার টাকা জরিমানা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নবীগঞ্জে বাস-পিকআপ সংঘর্ষে ৩ জন নিহত প্রতিবন্ধী দীপঙ্করের জীবনে নতুন আশার আলো, পাশে দাঁড়াল চ্যারিটেবল ট্রাস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে মেয়েরা এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ চট্টগ্রামে সিএনজি স্টেশনে চাঁদাবাজি অভিযোগে মিছিল হাটহাজারী মাদরাসায় এলেন প্রধানমন্ত্রী নৃত্য, গান, কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস শ্রদ্ধাঞ্জলি বরুড়ায় আর্মি ছেলে পরিচয়ে নালিশী নিষেধাজ্ঞা ভূমি বেদখলের চেষ্টা  আসামী সুশেনের বিরুদ্ধে 

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে দুর্নীতির রাজত্ব, নেতৃত্বে জাহিদ হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২০ আগস্ট, ২০২৫
  • ৪২৬ বার

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক বর্তমানে দুর্নীতি, অপশাসন ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রিত শাসনের চরম দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে পার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যাংকের ভুক্তভোগী কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ‘জুলাই বিপ্লব’–এর পর স্বৈরশাসনের অবসানের মাধ্যমে সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হলেও, বাস্তবে ঘটেছে ঠিক তার বিপরীত। ব্যাংকের পুরনো দুর্নীতিগ্রস্ত সিন্ডিকেট নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় পাল্টে আবারো ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান করে নিয়েছে।

তারা অভিযোগ করেন, ‘বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক জাতীয়তাবাদী ফোরাম’ নামে একটি অস্বীকৃত ও অকার্যকর সংগঠনের ব্যানারে মো. জাহিদ হোসেন, ডিজিএম কে কেন্দ্র করে পুরাতন সিন্ডিকেটটি পুনরায় সংগঠিত হয়েছে। এই ফোরামের নামে জাতীয়তাবাদী আদর্শের অপব্যবহার করে ব্যাংকের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, টেন্ডারসহ সব কার্যক্রমকে দুর্নীতির চক্রে পরিণত করা হয়েছে।

বদলির ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে এমন একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। অভিযোগ উঠেছে বদলি বাণিজ্য: টাকা দিলে বদলি নিশ্চিত। আর এর প্রধান ভূমিকা পালন করছেন হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ডিজিএম মো. জাহিদ হোসেন। তার সঙ্গে রয়েছেন এবিএম মুনিবুর রহমান পাভেল, মো. রকিবুল হাসান, খোকন মিয়া, নুরে আলম শাওন, রিয়াজ মাহমুদ, তাসলিমা আক্তার লিনা, মো. আলমগীর হোসেনসহ একাধিক কর্মকর্তা।বদলী বানিজ্য সিন্ডিকেট ( অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের মধ্যে রয়েছে মো: মিরাজ হোসেন, অননোমোদিত সিবিএ, সাধারণ সম্পাদক (ক্যাশিয়ার ও সিন্ডিকেট প্রধানের আস্থাভাজন), ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ সিবিএ, অনির্বাচিত সভাপতি (প্রধান তত্তাবধানকারী, অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী) । এই সিন্ডিকেট সদস্যরা বদলির জন্য নিচ্ছেন বড় অঙ্কের টাকা। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভাগের অভ্যন্তরে বদলির জন্য ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা,এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে বদলির জন্য ১.৫ থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ গ্রহণ করা হচ্ছে।অথচ ব্যাংকের বদলি নীতিমালা ২০১৮-এর ১৮ ধারায় তিন বছরের বেশি একই কর্মস্থলে থাকা নিষিদ্ধ হলেও, এই সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় বহু কর্মকর্তা পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে একই পদে বহাল রয়েছেন।

টেন্ডার বাণিজ্য: মানহীন পণ্যে ভরে যাচ্ছে ব্যাংক। নিম্নমানের পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে কাজ পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে, প্রতি মাসে গোপনে ‘কমিশন’ যাচ্ছে সিন্ডিকেট প্রধানদের কাছে। এতে ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতি তো হচ্ছেই, পাশাপাশি সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

পদোন্নতিতে অর্থের প্রভাব, মেধার মূল্য নেই: ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ পদোন্নতির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও মেধার পরিবর্তে ঘুষকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এক কর্মকর্তা জানান, “পদোন্নতির জন্য এখন মেধা নয়, টাকাই আসল মাপকাঠি।” প্রমাণ হিসেবে বলা হয়, ২০২৪ সালে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মুখ্য কর্মকর্তার পদে ৪৬৮২ থেকে ৫০২৭ পর্যন্ত তালিকায় থাকা ২৫৬ জনকে বাদ দিয়ে ৫০২৮ থেকে ৫০৭৯ পর্যন্ত তালিকায় থাকা ৩৬ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়, যা স্বাভাবিক নয় এবং এর পেছনে অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে দাবি। এই সিন্ডিকেটের মূল নেতৃত্বে রয়েছেন ডিএমডি-২ খালেদুজ্জামান, কে.এম. হাবিব উন নবী, সৈয়দ লিয়াকত হোসেনসহ আরও অনেকে।

অসহায় কর্মচারীরা সন্ত্রাসের ভয়ে চুপ: চাঁদাবাজি ও হুমকির অভিযোগ: ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, এই সিন্ডিকেট অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও বহিরাগতদের ব্যবহার করে ক্যাডার বাহিনী গঠন করেছে। যারা সময়-অসময়ে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হুমকি, গালাগাল ও এমনকি মারধর করতেও পিছপা হচ্ছে না। ফলে সাধারণ কর্মচারীরা আতঙ্কিত, অনেকেই চাকরি হারানোর ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না।

ভুক্তভোগীরা এই দুর্নীতির অবসানে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা জানান, এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবেন এবং এ বিষয়ে গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন। তাদের ভাষ্য, “বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংককে বাঁচাতে হলে জাহিদ হোসেন গংয়ের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। আমরা সরকারের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার দাবি জানাই।”

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় sweb.net