পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং কর্ণফুলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কর্ণফুলী প্রেস ক্লাব।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কর্ণফুলী প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেস ক্লাবের সভাপতি নুরুল আমিন মিন্টু। সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম সভা সঞ্চালনা করেন।
মামলার বিষয়ে সভায় বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের কাজ হলো তথ্য অনুসন্ধান করে সত্য ঘটনা তুলে ধরা। পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে কোনো সাংবাদিক যাতে হয়রানি বা মামলা-হামলার শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত। একই সঙ্গে কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা আইনানুগ ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় তদন্তের আহ্বান জানান তারা।
প্রেস ক্লাবের সভাপতি নুরুল আমিন মিন্টু বলেন, “সাংবাদিকেরা সত্য ঘটনা তুলে ধরতে কাজ করেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে কোনো সাংবাদিককে হয়রানি বা মামলা দিয়ে দমিয়ে রাখা উচিত নয়। সাংবাদিকদের ওপর অন্যায় হলে কর্ণফুলী প্রেস ক্লাব ভবিষ্যতেও তার প্রতিবাদ করবে।”
সভায় কর্ণফুলীর সাউথ চট্টগ্রাম হাসপাতালে এক কন্যাশিশু নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়টিও আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন বক্তারা।
নুরুল আমিন মিন্টু বলেন, কর্ণফুলীতে গড়ে ওঠা বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকগুলোর সেবার মান এবং চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়মিত তদারকি করা প্রয়োজন। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবহেলা বা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সভায় ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরে বলা হয়, শাহনাজের স্বামী আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, তাঁর স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা প্রায় ৬ লাখ টাকা ও ২ ভরি স্বর্ণ আত্মসাৎ করে বাড়ি থেকে চলে এসেছেন। এ ছাড়া অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তাঁর অনাগত সন্তান নষ্ট করারও অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের কাছে কিছু অভিযোগের কপিও দেন।
পরবর্তীতে বিষয়টি যাচাই করতে কর্ণফুলী প্রেস ক্লাবের সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম ও দৈনিক জনবাণী প্রতিনিধি মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন কর্ণফুলীর চক্ষু হাসপাতালে যান। সেখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে তাঁরা শুধু বাদীর মা—যিনি ওই হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করেন—তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। তবে মামলার বাদী শাহনাজের সঙ্গে দুই সাংবাদিকের সরাসরি দেখাও হয়নি।
দুই পক্ষের বক্তব্যে বিষয়টি পরিষ্কার না হওয়ায় সাংবাদিকেরা কোনো সংবাদ প্রকাশ করেননি। এমনকি কোনো সাক্ষাৎকার, ছবি বা ভিডিও ধারণও করেননি বলে জানান তাঁরা।
সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমরা কারও বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করিনি। বিষয়টি জানতে গিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে শুধু বাদীর মায়ের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। পরে দুই পক্ষের বক্তব্যে বিষয়টি পরিষ্কার না হওয়ায় আমরা সংবাদ প্রকাশ করিনি। অথচ আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।”
এ ঘটনায় কর্ণফুলী প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং তদন্ত প্রতিবেদন সঠিকভাবে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি ও দৈনিক আমার দেশ-এর প্রতিনিধি খালেদ মনছুর, সহসভাপতি ও দৈনিক যুগান্তরের প্রতিনিধি মোহাম্মদ বদরুল হক, অর্থ ও দপ্তর সম্পাদক এবং দৈনিক ইনকিলাবের সংবাদদাতা মো. জাবেদুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও দৈনিক ভোরের বাণীর প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম, ক্রীড়া সম্পাদক ও প্রবাসী টিভির প্রতিনিধি মো. সাইফুল ইসলামসহ প্রেস ক্লাবের অন্যান্য সদস্য।