এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ কিছুটা লড়াই করেন। তবে ৫১ বলে ১১ রান করা মিরাজকে কামিন্স এবং ৩৬ বলে ১০ রান করা হাসানকে জশ হ্যাজলউড ফিরিয়ে দিলে আবারও ধস নামে বাংলাদেশের ইনিংসে। তাসকিন আহমেদও ৭ বলে ১ রান করে কামিন্সের শিকার হন।
তখন বাংলাদেশের সামনে ছিল আরও বিব্রতকর এক রেকর্ডের শঙ্কা। টেস্টে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ ৪৩ রান। ২০১৮ সালে অ্যান্টিগায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই স্কোরে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। ম্যাকাইয়েও একসময় সেই রেকর্ড ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম সেই লজ্জা এড়ান। শেষ উইকেটে দুজন মিলে ৩৫ বলে ২৫ রান যোগ করেন। যা এই ইনিংসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি। এই জুটিতেই ৪৩ রান পেরিয়ে যায় দল। শেষ পর্যন্ত শরিফুলকে উইকেটকিপার অ্যালেক্স কেয়ারির ক্যাচ বানিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস শেষ করেন স্টার্ক।
২৬ বলে ১১ রান করেন তাইজুল। শরিফুলের ব্যাট থেকে আসে ১৪ রান। যা বাংলাদেশের ইনিংসের সর্বোচ্চ ব্যাক্তিগত সংগ্রহ।
বাংলাদেশকে ৬৩ রানে গুটিয়ে দিয়ে স্টার্কও গড়েছেন একাধিক কীর্তি। ম্যাচের প্রথম বলে উইকেট নেওয়ার পর প্রথম ওভারে উইকেট পাওয়ার সংখ্যায় জিমি অ্যান্ডারসনকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। বাংলাদেশের বিপক্ষে মাত্র ২২ বলে পাঁচ উইকেট নিয়েও গড়েছেন রেকর্ড। সব মিলিয়ে ইনিংসে ছয় উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের মূল কারিগর তিনিই। এছাড়া প্যাট কামিন্স তিনটি এবং জশ হ্যাজেলউড নেন একটি উইকেট।
ম্যাকাইয়ের টেস্ট অভিষেক বাংলাদেশের ইনিংসটি হয়ে থাকল এক দুঃস্বপ্নের অধ্যায়। আর স্টার্কের জন্য এটি হয়ে উঠল স্মরণীয় এক বোলিং প্রদর্শনী। এখন দেখার বিষয় হাসান-তাসকিন-শরিফুলরা অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের কতটা চাপে রাখতে পারে!