অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে সাবেক এই ক্রিকেটার বলেন, ‘ভালো লাগছে যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গিয়ে আমরা টেস্ট ম্যাচ উইন করতে পেরেছি। এটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য হিউজ একটা অ্যাচিভমেন্ট। লাস্ট ৭টা টেস্ট ম্যাচের মধ্যে আমরা ৫টাতে জয় পেয়েছি, যা আমাদের ক্রিকেটের জন্য বড় প্রাপ্তি। আমাদের ওয়ানডে টিমও খুব ভালো করছে। অস্ট্রেলিয়ার মতো টিমের সঙ্গে এই জয়ের পার্ট হতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের দুটি স্মরণীয় জয়ের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ করেছেন আশরাফুল। ২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ওয়ানডে জয়ে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। এবার কোচ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের সাক্ষী।
দুই অভিজ্ঞতার তুলনায় আশরাফুল বলেন, ‘নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করছি যে এত বড় একটা অ্যাচিভমেন্টের সঙ্গে থাকতে পেরেছি। যখন ২০০৫ সালে আমরা অস্ট্রেলিয়াকে হারালাম কার্ডিফে, ওই অস্ট্রেলিয়া টিমটা মাইটি অস্ট্রেলিয়া টিম ছিল। এবারের অস্ট্রেলিয়া টিমটাও চমৎকার টিম ছিল এবং তাদের মাঠে গিয়ে আমরা উইন করেছি। দুইটা টিমের সঙ্গেই থাকতে পেরে ভালো লাগছে।’
অস্ট্রেলিয়া সফরের পর বাংলাদেশের সামনে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে। তবে তার আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি টেস্ট এবং এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলার কথা রয়েছে। সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর নিয়েও পরিকল্পনা চলছে বলে জানান আশরাফুল।
এক প্রশ্নরর জবাবে আশরাফুল বলেন, ‘অবশ্যই আমাদের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে হোমে দুইটা ম্যাচ, তারপরে আমরা সাউথ আফ্রিকা যাব। আমি বিশ্বাস করি আমাদের সবাই যদি সুস্থ থাকে, আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ চিন্তা করছি। ফার্স্ট অফ অল আমাদের আফগানিস্তানের সঙ্গে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচ না হলেও একটা টেস্ট ম্যাচ আছে, সেখানে আমরা ভালো করার চেষ্টা করব। তারপরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে দুইটা টেস্ট খেলে সাউথ আফ্রিকা যাব।’
দলের সাম্প্রতিক সাফল্যের পেছনে ভালো উইকেটে খেলার সুযোগ পাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন আশরাফুল, ‘আমরা যদি সব সুস্থ থাকি, লাস্ট ৯ মাস ধরে যেভাবে প্রিপারেশন নিচ্ছি প্রত্যেকটা টেস্ট ম্যাচ এবং ওয়ানডেতে, আমরা ভালো উইকেটে খেলছি। এটার ক্রেডিট দিতে হবে ক্রিকেট বোর্ড এবং ম্যানেজমেন্টকে, বিশেষ করে হেড কোচ এবং তিন ফরম্যাটের ক্যাপ্টেনরা ডিসিশন নিয়েছেন যে আমরা ভালো উইকেটে খেলব। লাস্ট ৯ মাস ধরে আমরা ভালো উইকেটে খেলছি দেখেই ভালো রেজাল্ট আমাদের ফেভারে আসছে। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং সব জায়গাতেই আমরা ভালো করছি।’
তবে ম্যাকায়ের দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে কিছুটা চিন্তার জায়গা দেখছেন আশরাফুল। একই ধরনের কঠিন কন্ডিশনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে ভুগেছে বলে জানান তিনি, ‘ডিফিকাল্ট কন্ডিশনে আমরা জিম্বাবুয়ের সঙ্গেও দুইটা ইনিংস ভালো করতে পারিনি, ম্যাকায়েও আমরা ভালো করতে পারিনি। অলমোস্ট সিমিলার কন্ডিশন ছিল। ডারউইনে অলমোস্ট ৩০ ডিগ্রি ছিল, আমাদের মতো গরম; কিন্তু ম্যাকায়ে অলমোস্ট ১৭-১৮ ডিগ্রি ছিল, যা অস্ট্রেলিয়ার ফেভারে ছিল। টসটা একটু ইম্পর্টেন্ট ছিল ওই জায়গাটায়। তারপরেও আমি বিশ্বাস করি আমাদের ব্যাটসম্যানরা এটা নিয়ে কাজ করবে। যখন আমরা সাউথ আফ্রিকা যাব, সেখানে যেন ভালো হয়, সেই বিষয় নিয়ে আমরা নেক্সট মাসগুলোতে কাজ করব।’