নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে চলন্ত সিএনজি থেকে সদ্য ভূমিষ্ঠ এক ছেলে নবজাতককে রাস্তায় ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক তরুণীর বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। এ ঘটনায় ওই তরুণী ও সিএনজি চালককে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চলন্ত সিএনজি থেকে নবজাতককে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। শিশুটির শরীরে আঘাত থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফেনী স্টার লাইন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর সিএনজি চালকসহ ওই তরুণীকে আটক করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। বর্তমানে তরুণীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আটক তরুণীর দাবি, পাশের বাড়ির সালাউদ্দিন, পিতা আলাউদ্দিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন এবং বিষয়টি সালাউদ্দিনকে জানান। তার অভিযোগ, সালাউদ্দিন বিয়ের আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি অস্বীকার করতে থাকেন। পাশাপাশি তরুণীর পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও অপবাদ দেওয়া হচ্ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তরুণীর ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি সিএনজি চালক সামসুকে সঙ্গে নিয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। পথেই সিএনজির ভেতর তার সন্তান প্রসব হয়। এরপর তিনি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য জরুরি বিভাগে গেলে কর্তব্যরতদের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে নবজাতককে হাসপাতালের সামনে রেখে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। অন্যদিকে সিএনজি চালক সামসুর দাবি, ওই তরুণী তার ভাগ্নি। তার বাড়ি কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর এলাকায়। আর তরুণীর বাড়ি ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নে বলে জানা গেছে। কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই সুমন দাস জানান, “চিকিৎসা শেষে অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও তদন্তের পর ঘটনার প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে।