চন্দনাইশ উপজেলার দক্ষিণ সীমান্তবর্তী শঙ্খ নদীতে দোহাজারী ১‘শ মেগাওয়ার্ট বিদ্যুৎ প্লান্টের স্লাইজ পড়ে পানি দূষিত হওয়ার সংবাদ পেয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। গত ১ সপ্তাহে মইল্যা খালের প্রায় ৫ কি.মি. পরিস্কার করা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ১৫ দিন ধরে শঙ্খ নদীতে দোহাজারী ১‘শ মেগাওয়ার্ট বিদ্যুৎ প্লান্টের স্লাইজের প্রলেপ পড়ে নদীর পানি দুষিত হচ্ছে। সংবাদ পেয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর টনক নড়ে বিদ্যুৎ উপাদন কর্তৃপক্ষের। তারা জানান, গত ১ সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন ২০-২৫ জন শ্রমিক দিয়ে, স্কেবেটর দিয়ে নদীর পানিতে আবরণকৃত স্লাইজ অপসারণসহ খালটি পরিষ্কার করা হয়। বর্তমানে এই পরিস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। তারা জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে ৫ জন সহকারী প্রকৌশলী তদারকির মাধ্যমে খাল পরিস্কার কার্যক্রম মনিটরিং করা হচ্ছে জনস্বার্থে। তারা বলেছেন, চলতি বছর বন্যার সময় পাহাড়ি ঢলের পানি বিদ্যুৎ প্লান্টে প্রবেশ করে স্লাইজে ঢুকে পড়ে। পাহাড়ি ঢলের পানির সাথে স্লাইজের আবরণ মইল্যা খালে পড়ে। খালটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করার কারণে খালে ময়লা-আবর্জনার সাথে স্লাইজ আটকে থাকে। বিষয়টি জানার পর গত ১ সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ প্লান্ট কর্তৃপক্ষ স্লাইজ পরিষ্কার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন ২০-৩০ জন শ্রমিক দিয়ে এই পরিষ্কার কাজ চালানো হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃপক্ষকে স্লাইজ অপসারনের পরামর্শ দেন বলে জানা যায়। বিদ্যুৎ প্লান্ট কর্তৃপক্ষ বলেছেন, বর্তমানে তাদের ভিতরের বৃষ্টির পানি পর্যন্ত বাইরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। ভেতরে যে পুুকুরটি রয়েছে সেখানে সাড়ে ৩ হাজার লিটার পানির ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। নদীর পানিতে কালছে তৈলাক্ত আস্তরণ খালি চোখে দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়লে শঙ্খ নদীর জীববৈচিত্রে হুমকির মুখে পড়বে বলে বলছেন পরিবশবিধরা। জানা যায়, ১‘শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যে কক্সবাজার ৫০ মেগাওয়াট, বান্দরবান এলাকায় ২০ মেগাওয়াট বাকি ৩০ মেগাওয়াট এ কেন্দ্র থেকে পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়াসহ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে।