চট্টগ্রাম চন্দনাইশ উপজেলার সাতবাড়িয়া ছলিয়ার পাড়া এলাকায় পুরানো এক চোরকে আটক করে গণধোলাই দিয়েছে জনতা। গতকাল ১১ সেপ্টেম্বর বিকালে ছলিয়া পাড়া এলাকায় মনছফ আলীর ছেলে মো. ইমরান (২০) কে স্থানীয়রা চুরির অপরাধে আটক করে গণধোলাই দেয়।
স্থানীয়রা জানান, ইমরান একজন পেশাদার চোর। গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে তাদের পাশ্ববর্তী নবাব মিয়ার বাড়িতে স্ত্রী, ছেলে মেয়েদের নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে আসে পটিয়ার অলিহাটের মো. হারুন। তাদের বহনকারী অটোরিকশা থেকে ইমরান ব্যাটারি, অতিরিক্ত চাকা, এম, টুলবক্সে থাকা ৬ হাজার টাকাসহ ১৫ হাজার টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে তাদের বাড়িতে ইমরানকে খুঁজতে গেলে তার পরিবারের লোকেরা দা চুরি নিয়ে এগিয়ে এসে হামলা চালিয়ে পটিয়ার হারুনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তাকে প্রথমে চন্দনাইশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এ ব্যাপারে গৃহকর্তা মো. সুমন বাদী হয়ে ইমরানসহ ৪ জনকে আসামী করে চন্দনাইশ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। গতকাল ১১ সেপ্টেম্বর বিকালে স্থানীয়রা ইমরানকে বাগিচাহাট এলাকায় পেয়ে আটক করে ব্যাটারি বিক্রি বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে পুনরায় তারা ব্যাটারিটি ক্রয় করে ইমরানকে আটক করে এলাকায় নিয়ে আসে। এ সময় ইমরান সকলের সামনে বিভিন্ন সময়ে চুরির বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেয়। স্থানীয়রা জানান, ইমরান ইতিপূর্বে তালুকদার পাড়ার চট্টগ্রামে বসবাসকারী আহসান হাবিবের ঘর থেকে ৫টি কম্বল, ৫টি বৈদ্যুতিক পাকা, কাপড়-চোপড়, ডেকসিসহ অর্ধ লক্ষাধিক টাকা মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। দু‘মাস পূর্বে প্রবাসী জিল্লুর রহমানের বাড়ি থেকে তাদের অনুষ্ঠান চলাকালে দুটি স্বর্ণের আংটি চুরি করে পরে ইমরান থেকে উদ্ধার হয় বলে জানান। তাছাড়া দেড় মাস পূর্বে জসিম উদ্দিনের বাড়ি থেকে ৫০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি মোবাইল সেট চুরি করে পরে তার থেকে উদ্ধার হয়। বদি আলমের বাড়ি থেকে ভারী মোটর চুরি করে নিয়ে যায়। বিধবা রওশন আরার ঘর থেকে বন্যার সময় ত্রাণ হিসেবে পাওয়া ১৫ লিটার তেল, চাল, ডাল চুরি করে নিয়ে যায়। নবাব মিয়া ও বেলালের নতুন বাড়ির পিলারে লাগানো লক্ষাধিক টাকার রড় কেটে নিয়ে যায় ইমরানসহ তার সহযোগি চোরেরা। এসব চোরের দলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এলাকাবাসী ইমরান ও তার পরিবারের সদস্যদের সাথে সম্পর্ক না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় মাহবুব আলম। স্থানীয়রা আরো জানান ইমরান একাধিকবার চুরি করে ধরা পড়ে এবং কয়েক দফা নন জুডিশিয়াল স্টাম্পে লিখিত দিয়ে চুরি না করার অঙ্গিকার করে পুনরায় চুরির কাজে লিপ্ত হয়। সম্প্রতি ইমরান বিয়ে করলেও বাড়িতে স্ত্রীকে রাখেন না বলে জানালেন স্থানীয়রা।