https://www.dailyshamolbangla.com/
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পুকুর থেকে মাছ লুট, বসতঘরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে জাকির হোসেন (৭৪) নামে এক বৃদ্ধ গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার ৬ নম্বর রাজগঞ্জ ইউনিয়নের আলাদিনগর গ্রামের ইসমাইল মৌলভী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের পুকুরে জাল ফেলে মাছ ধরে নিয়ে যান। এ সময় বাধা দিলে তাঁদের মারধর করা হয়। পরে বসতঘরে প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
এ ঘটনায় মনছুর হাবিব বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন। এতে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের সঙ্গে বাদীপক্ষের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও বিরোধের সমাধান হয়নি। এর জের ধরে ঘটনার রাতে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে তাদের ভোগদখলে থাকা ঘোষের দিঘিতে জাল ফেলে মাছ ধরেন। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার মাছ নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, মাছ ধরার প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করা হয়। পরে প্রাণভয়ে বসতঘরে আশ্রয় নিলে অভিযুক্তরা সেখানে প্রবেশ করে আবারও হামলা চালান। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদেরও মারধর করা হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলায় জাকির হোসেনের দুই হাতের কব্জি, হাঁটু ও গোড়ালিসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে। অন্য একজনের হাতের আঙুলেও আঘাত করা হয়। এ ছাড়া এক নারীকে মারধর ও তার পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা তাদের নির্মাণাধীন ভবনের সেন্টারিংসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী ভাঙচুর করেন। এতে আনুমানিক ৬০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। বাড়ির সিসি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও করেছেন তারা।
আহতদের মধ্যে বাদী মনছুর হাবিব ও অপর একজন বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। গুরুতর আহত জাকির হোসেনকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় মাছ ধরার জাল ও মাছ রাখার ক্রেটসহ দুজনকে আটক করে হেফাজতে নেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করে হেফাজতে নিয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।