1. nerobtuner@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  2. omarfarukbd12@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  3. info@shamolbangla.net : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
অগ্নিকান্ডে গাজীপুরে ১০শ্রমিক নিহত অনুমোদনহীন কারখানায় ছিল না ফায়ার লাইসেন্সও - দৈনিক শ্যামল বাংলা
বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
সাতকানিয়ায় স্থানীয়দের উদ্যোগের পর পুলিশের মাদকবিরোধী র‌্যালি  হোপের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: তিন শাখায় ফলজ গাছের চারা বিতরণ আনোয়ারায় তিন ফার্মেসিতে অভিযান ৬৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড মাগুরার শ্রীপুরে আধিপত্যেকে কেন্দ্র করে বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট!  আহত -৫ মানুষ মেরে পালাচ্ছিলো প্রাইভেটকার : ধাওয়া দিয়ে হাটহাজারীতে আটকালো জনগন নোয়াখালীতে চট্টগ্রাম অঞ্চল উপযোগী বিনা উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণে আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামের শিপইয়ার্ড যেন মৃত্যুকূপ ৯ বছরে ১৩৭ শ্রমিকের মৃত্যু, নিরাপত্তা তদারকিতে গাফিলতির অভিযোগ মাগুরার শ্রীপুরে কালবের উদ্যোগে মিউচ্যুয়াল এইড সার্ভিসেস ও লাইফ সেভিংসের বেনিফিট প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে নিখোঁজের একদিন পর বাড়ির সামনের পুকুর থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার  মাগুরার শ্রীপুরে কালবের উদ্যোগে মিউচ্যুয়াল এইড সার্ভিসেস ও লাইফ সেভিংসের বেনিফিট প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

অগ্নিকান্ডে গাজীপুরে ১০শ্রমিক নিহত অনুমোদনহীন কারখানায় ছিল না ফায়ার লাইসেন্সও

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৪৩২ বার

ফজলে মমিন, গাজীপুর:
গাজীপুর সদর উপজেলায় কেশরিতা গ্রামে রোববার সন্ধ্যায় অগ্নিকান্ডে রওজা হাইটেক’র লাক্সারি ফ্যান নামের কারখানার ১০জন শ্রমিক নিহত হয়। ওই কারখানাটির কোন ধরনের অনুমোদন ছিল না বলে জানিয়েছেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। সোমবার সকালে তারা কারখানা পরিদর্শন করে এমন তথ্য দেন। তবে দমকল কতৃপক্ষ জানিয়েছে কারখানাটির কোন ফায়ার লাইসেন্স এবং পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা ছিলা না।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের যুগ্ম মহাপরিচালক ফরিদ আহমেদ জানান, শ্রম মন্ত্রণালয় তথা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের কোন অনুমোদন ছিল না। স্থানীয় একটি দু’তলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবন ভাড়া নিয়ে অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ন ভাবে দোতলার উপরে উপরে টিনের শেড নির্মাণ করে ফ্যান তৈরীর কারখানা গড়ে তোলা হয়। উপরে ৩য় তলায় আগুনের সূত্রপাত হলেও নীচে নামার জন্য বিকল্প পথ (সিড়ি) না থাকায় ভিতরে আটকেই দগ্ধ হয়ে শ্রমিকদের হতাহতের ঘটনা ঘটে। কারখানা স্থাপনে কোন ধরনের নিয়ম মানা হয়নি, কারখানা স্থাপনের কোন অনুমতি নিতে কোন ধরনের আবেদনও করেনি এই কারখানা কর্তৃপক্ষ।

অপরিকল্পিতভাবে ঝুঁকিপূর্ন অবস্থায় কারখানাটি পরিচালিত হচ্ছিল। সম্ভবত শর্ট সার্কিট থেকেই সৃষ্ট অগ্নিকান্ডের পর কারখানায় তৃতীয় তলায় দরজার কাছে দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কারখানাটিতে তৃতীয় তলা থেকে নিচে নামার একমাত্র সিড়ি ছাড়া বিকল্প কোন সিড়ি বা পথ ছিল না। তৃতীয় তলায় দরজার পাশে আগুনের সূত্রপাত হলে সেখানে থাকা ১৯জনের মধ্যে ৯জন ঝুঁকি নিয়ে নিচে নামতে সক্ষম হলেও বিকল্প পথ না থাকায় ১০জনশ্রমিক সেখানে শ্রমিকরা আটকে পড়েন। এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে নিয়মানুয়ায়ী মামলা দায়ের করা হবে। এছাড়াও আইনঅনুযায়ী নিহত ও আহতদের কারখানার মালিকের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরন আদায়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এ ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ে ভিক্টিমদের পরিবারের সদস্যদের আবেদন করতে হবে।

ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার আগেই লাশ হস্তান্তর
রোববার রাতে লাক্সারি ফ্যান কারখানায় অগ্নিকান্ডে দগ্ধ হয়ে মারা যান ১০জন শ্রমিক। লাশগুলোর নমুনা সংগ্রহের পর সিআইড’র ফরেনসিক বিভাগের ডিএনএ টেস্ট করার আগেই সোমবার দুপুরে লাশগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক প্রণয় ভূষন জানান, লাশের ময়নাতদন্ত শেষে এবং নিহত কর্তৃক সনাক্তের পর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে সোমবার দুপুরে তাদের লাশগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়। এসময় গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিনুর ইসলাম ও সিআিইডি ফরেনসিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুস সালামসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা ছিলেন। লাশ হস্তান্তরের সময় দাফনের জন্য জেলা প্রশাসকের ঘোষিত প্রতি লাশের জন্য ২৫হাজার টাকা এবং কারখানা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে আরো ২০হাজার টাকা করে স্বজনদের প্রদান করা হয়েছে। লাশ হস্তান্তরের সময় পুরো হাসপাতাল এলাকায় নিহতের স্বজন ও সহকর্মীদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। তারপরও লাশ নিয়ে পরবর্তীতে কোন আপত্তি নিষ্পত্তিতে ১০টি লাশের এবং উপস্থিত স্বজনদের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া কেশরিতা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন (২০) ও জামুনা এলাকার আব্দুল মোতালেববের ছেলে মো. হাসান (১৯) আহত হয়েছেন।

যাদের লাশ হস্তান্তর হলো
গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার মার্তা গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে রাশেদ (৩৪), একই গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে শামীম (২২), গাজীপুর সদর উপজেলার কেশরিতা গ্রামের বীরবল চন্দ্র দাসের ছেলে উত্তম চন্দ্র দাস (১৮), একই উপজেলার কালনী গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে ফয়সাল খান (২০), গাজীপুর মহানগরীর নোয়াগাঁও এলাকার লালমিয়ার ছেলে পারভেজ (১৯), ময়মনসিংহ জেলার কোতয়ালী থানার রাঘবপুর গ্রামের সেলিমের ছেলে তরিকুল ইসলাম(১৯), রংপুর জেলার হারাগাছ থানার কাচু বকুলতলা গ্রামের তাজৃুল ইসলামের ছেলে ফরিদুল (২৩), নরসিংদী জেলার বেলাব থানার চর কাশিনগর গ্রামের মাজু মিয়ার ছেলে সজল (২০)),ব্রাহ্মনবাড়ীয়া জেলার বাঞ্জারামপুর থানার মোরশেদ মিয়ার ছেলে ইউসুফ (৩০), দিনাজপুর জেলার কাহারুল থানার বারপাইটা গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে লিমন(১৯)।

তবে কারখানাটির কোন ফায়ার লাইসেন্স ও অগ্নিনির্বাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ছিলনা বলে জানিয়েছেন গাজীপুরের ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারি পরিচালক মো. মামুন অর রশিদ।

লাক্সারী ফ্যান কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদ হোসেন ঢালী সাংবাদিকদের জানান, সরকারি বিধি মোতাবেক নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে এবং তারা যে উৎসব বোনাস ও বেতন পেতেন তাদের পোষ্যদের আজীবন তার সুবিধা প্রদান করা হবে। তবে তিনি ফায়ার লাইসেন্স ও কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের অনুমোদনের বিষয়ে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম জানান, সোমবার লাশ হস্তান্তরের সময় তার ঘোষিত ২৫হাজার টাকা এবং মালিকের পক্ষ থেকে আরো ২০ হাজার টাকা প্রতিলাশের স্বজনদের প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া শ্রম কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরো ৫০হাজার টাকা করে প্রদান করা হবে।

তদন্ত কমিটি
জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের জানান, ঘটনা তদন্তে গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শাহিনুর ইসলামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়েছে। কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার সময় দেয়া হয়েছে ৭ কার্যদিবস। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেকের লাশ দাফনের জন্য ২৫হাজার করে টাকা প্রদানের ঘোষনা দেন জেলা প্রশাসক।

অপরদিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডিজি মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, তাদের তরফ থেকে তিন সদস্য বিশষ্ট একটি কমিটি গঠণ করা হয়েছে। সাত কার্যদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। জয়দেবপুর থানার ওসি মো. জাবেদ আলী জানান, সোমবার বিকেল পৌণে ৫টা পর্যন্ত ওই ঘটনায় কোন মামলা হয়নি।

উল্লেখ্য, গাজীপুরের সদর উপজেলায় কেশরিতা গ্রামে রোববার সন্ধ্যায় রওজা হাইটেক লাক্সারি ফ্যান কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে জয়দেবপুর ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন বলেন জানান জয়দেবপুর ফায়ার স্টেশন অফিসার জাকারিয়া খান। তিনি আরও জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভান। পরে তৃতীয় তলায় ১০শ্রমিকের লাশ দেখতে পান তারা। প্রথমে তৃতীয় তলায় একটি দরজার কাছে আগুনের সূত্রপাত হলে শ্রমিকরা আত্মরক্ষায় ভেতরের দিকে চলে যায়। পরে মূহুর্তের আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে শ্রমিকরা আটকা পড়েন। আগুন নিয়ন্ত্রণের পর তৃতীয় তলার কক্ষ থেকে ১০শ্রমিককের লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় sweb.net