ঢাকা   ০৪:০৩:৫৯ এএম, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম:
নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জের রামপুরে নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান, মজুদ প্রায় ৯৮ বিলিয়ন ঘনফুট পোশাক শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখতে কৌশলগত নেতৃত্ব তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির ১২ কেজির সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়ল ২২৩ টাকা মাগুরায় মধুমতী নদীতে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত  কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আবহাওয়ার আগাম বার্তা পাবেন কৃষকরা উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ  ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আমজাদ এন্টারপ্রাইজের কেমিক্যালের ড্রাম ব্যবসা, দূষণের ঝুঁকিতে কর্ণফুলী নদী, আতঙ্কে নোমান কলেজ রোডের বাসিন্দারা মাগুরায় নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত টঙ্গীর রাজনগরে জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ, মাফিজুরের গ্রেপ্তার দাবি ভুক্তভোগীদের

শ্রীপুরে কয়েক যুগ ধরে তৈরি হয় মদ, বন্ধ করতে পারিনি পুলিশ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৫
  • ২৯৮ বার
  • ৭ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

ফজলে মমিন,শ্রীপুর (গাজীপুর)

শ্রীপুর থানা থেকে মাত্র চার-পাঁচ’শ গজ দূরত্বে মদের কারখানা! স্থানীয়দের অভিযোগ সকল সম্প্রদায়ের যুবকরা জড়িয়ে পড়েছে মাদক সেবনে।

তৈরি মদের পাশাপাশি গাঁজাও দেদারসে বিক্রি হচ্ছে এলাকায়।

হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। ফলে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে মাদকাসক্তের সংখ্যা। মাদকাসক্তের উৎপাতে অতিষ্ঠ এলাকার লোকজন। ঘটছে চুরি ছিনতাইসহ সামাজিক অপরাধ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নামে মাত্র মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখলেও নিয়ন্ত্রণে আসছে না মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম। এসব অভিযানে মাদকসেবী, মাদকব্যবসায়ী গ্রেফতার ও মাদক উদ্ধারের কথা বলছেন আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। কিন্তু চোলাই মদের কারখানা বন্ধ করতে পারিনি পুলিশ।

গাজীপুরের শ্রীপুর বাজারের দক্ষিণ পাশে পশু হাসপাতাল সংলগ্ন রেলের জায়গায় হরিজন সম্প্রদায়ের নামে পরিচিত বাড়িটি। এখানে ৮ থেকে ১০ টি পরিবার। প্রতিটি ঘরেই তৈরি হচ্ছে চোলাই মদ। নিজেদের বসতবাড়িতে এসব মদ তৈরি করছেন। শ্রীপুর থানা থেকে মাত্র চার-পাঁচশ গজ দূরত্ব মদ তৈরির কারখানা। সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মদ উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তের মাদকাসক্তদের কাছে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে স্থানীয় কয়েকজন সচেতন নাগরিক শ্রীপুরের মাদকের ভয়াবহতার এই চিত্র বর্ণনা করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, এখানে মাদক পেয়ে শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার উঠতি বয়সের যুবকেরা প্রতিনিয়ত আসক্ত হয়ে পড়ছে। নীরব যন্ত্রণায় দুর্বিষহ জীবন পার করছে পরিবারগুলো। এ নিয়ে গত এক যুগ সময় ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে মৌখিক অভিযোগ দিয়ে আসছে গ্রামবাসী। এতে কখনো কখনো অভিযান করা হলেও স্থায়ী কোনো প্রতিকার পায়নি ওই এলাকার সাধারণ মানুষ।

এরপর শ্রীপুর পৌরসভার লোহাগাছ গ্রামের পূজা মন্দিরের পাশে মুচি সম্প্রদায় চার থেকে পাঁচটি বাড়িতে তৈরি করা হয় চোলাই মদ। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই এই গ্রামের কয়েকটি পরিবার চোলাই মদ তৈরি করে আসছে। এসব মদ নিয়মিত বাজারজাত করা হয়। প্রতি রাতে শতাধিক লিটার চোলাই মদ বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার হচ্ছে। এরা মদ তৈরি ও বিক্রির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মাদকাসক্তরা এসে এলাকায় অপরাধ করে যাচ্ছে। তাদের দ্বারা গ্রামের স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্রীরা যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তের শিকারও হয়। স্থানীয়রা বলেন, থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে শুধু মাদকসেবীকে গ্রেফতার ও মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজার ব্যবস্থা করে জেলা হাজতে পাঠায়। কিন্তু প্রকৃত ব্যবসায়ীরা রয়েছে ধরা ছোয়ার বাইরে। উপজেলা প্রশাসন সহ আইন প্রয়োগকারী উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট এলাকার সুশীল সমাজের লোকজনের জোর দাবী মাদক সেবনকারীদের পাশাপাশি প্রকৃত ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক। এ বিষয়ে শ্রীপুর বাজার ব্যবসায়ী ও নিরাপত্তা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আরিফ সরকার বলেন, “দীর্ঘদিন যাবত এই সংঘবদ্ধ চক্রটি মদ উৎপাদন ও বিক্রি করে আসছে। এর আগে আমি সরাসরি ফেসবুক লাইভে এসে মদসহ তাদেরকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। আমরা চাই, “প্রশাসন যেন মদ উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে এলাকার যুবসমাজকে মাদকের কড়াল গ্রাস থেকে রক্ষা করে।”

এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়লাল আবেদীন মন্ডল বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা খুবই কঠোর অবস্থানে আছি ৷ মাদক নির্মূলে থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে ৷ মদ তৈরির এলাকাতে যথাসময়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি