1. nerobtuner@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  2. omarfarukbd12@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  3. info@shamolbangla.net : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
গ্রেনেড হামলায় ১৮ বছর ধরে গ্রেনেডের স্প্রিন্টারের ব্যাথা নিয়ে দিন কাটছে রেনুর - দৈনিক শ্যামল বাংলা
বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
মাগুরায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে ২ টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা  মাগুরায় নানা আয়োজনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত রাঙ্গামাটির ব্রীজের যানজট নিরসনে মানবিক উদ্যোগ—গর্ত ভরাট করলেন আব্দুল আলিম মেম্বার কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে ৫ বাংলাদে‌শির মৃত্যু : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গণমাধ্যম বাংলাদেশে এখন সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করছে : তথ্যমন্ত্রী কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জনের ৫ জন বাংলাদেশি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে চরফকিরা ইউনিয়নে প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: স্বর্ণালংকারসহ নগদ টাকা লুট সাতকানিয়ায় স্থানীয়দের উদ্যোগের পর পুলিশের মাদকবিরোধী র‌্যালি  হোপের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: তিন শাখায় ফলজ গাছের চারা বিতরণ আনোয়ারায় তিন ফার্মেসিতে অভিযান ৬৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড

গ্রেনেড হামলায় ১৮ বছর ধরে গ্রেনেডের স্প্রিন্টারের ব্যাথা নিয়ে দিন কাটছে রেনুর

হারুনুর রশিদ শেরপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২২ আগস্ট, ২০২২
  • ৩৭৪ বার

শেরপুরের নকলা উপজেলার পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, ময়মনসিংহ বিভাগের একমাত্র নেত্রী উম্মে কুলছুম রেনু । যিনি ২১ আগষ্টের গ্রেনেড হামলায় আহত হয়েছিলেন। তিনি গ্রেনেড হামলা মামলার ২২ নম্বর স্বাক্ষী। তার বাড়ি শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার চরঅষ্টধর ইউনিয়নের কেজাইকাটা গ্রামে। তিনি ২০০৪ ও ২০০৫ সালে সরকার বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে ৩ বার জেলে যান। ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় আহত ও স্বাক্ষী উম্মে কুলছুম রেনুর কাছে সেদিনের ঘটনা জানতে চাইলে । তিনি বলেন, বিট্রিশ হাই কমিশনার আনোয়ার কবিরের ওপরের গ্রেনেড হামলা হয়। তার প্রতিবাদে সেদিন আমাদের ২৩ নাম্বার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে সমাবেশ ডাকা হয়। সমাবেশ ডাকলে সেই সমাবেশে আমরা মিশিল নিয়ে যাই। যাওয়ার পরে যখন অস্থায়ী ট্রাকে নেতৃবৃদ্ধ সবাই সেখানে। তখন বক্তব্য একেরপর এক দিতাছে। যখন আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, ততকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্য শেষ। বক্তব্য শেষ করে জয়বাংলা ও জয় বঙ্গবন্ধু বলেছেন, ঠিক এই মুহুর্তে রমনা ভবনের ছাদের ওপর থাইক্কা গ্রেনেড ট্রাকের ওপর পরলো। আর প্রথম গ্রেনেডটি নেত্রীকে উদ্দেশ্য করে মারা হল। ট্রাক থেকে ¯িøপ কাইটা গ্রেনেডটি নেত্রীর শরিরে না লেগে আমাদের প্রয়াত আইভি আপার শরীরে গিয়ে পরলো। পরে আইভি আপাসহ আমরা সবাই আহত হইলাম। পরে একই সাথে আমাদের শরীরেও। আমরা পড়ে যাই, তখন আরো বোমা ফুটতেছিলো। আর আস্তে আস্তে আমাদের রক্ত জরতাছে আমরা দেখতাছি। কিন্তু কিছু বলতে পারতাছি না। এরপর একেরপর গ্রেনেড পরতাছে। এইটুকু কয়েকটা দেখার পরে। কখন জানি অজ্ঞান হয়ে যাই।
আর পরে কিছু বলতে পারি না। পরে আমি লোক মুখে যা শুনছি তাই আরকি। পরে আমাকে কে বা কারা ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যায়। তারপরে আমার অবস্থা ঢাকা মেডিকেলেও খারাপ। আমি নাকি অজ্ঞান ছিলাম। পরে আমাকে মতিয়া চৌধুরী, সাবের ভাই ঢাকা মেডিকেল থেকে আমাকে পরে আমাকে গ্রিন ল্যাব ধানমন্ডি হাসপাতালে নিয়ে যায়। ওখানে আমার চিকিৎসা হয়। ১৪দিন পর জ্ঞান ফিরে আমার। পরে ভারতের বেলুর সিএমসি হাসপাতালে ১ মাস চিকিৎসা নিয়ে দেশে আসি। তারপর সাভার সিআরপি হাসপাতালে ৮ মাস চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসি। একাবারেই প্রথমে হাটতে পারতাম না। তারপরে একটু হাটতে পারি। এখনো পায়ে বল পাইনা । এরপরেও তার শরীরে গ্রেনেটের অন্তত ৭টি স্প্রিন্টার নিয়ে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে। আর ডাক্তার বলছে এইগুলা আর বের হবে না। অনেক অপারেশন করে বের করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু বের করা যায় না। কারণ এগুলো রক্তের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় যায়।
তিনি আরও বলেন, আমাকে তো মৃতই ঘোষনা করেছিলো। আল্লাহ বাচিয়েছেন। বেচে আছি। তবে এখনো চিকিৎসা করিয়ে চলছি। এভাবেই চলবে যতদিন বেঁচে আছি। আমার শরীরে এখনো গ্রেনেটের সাতটি স্প্রিন্টার আছে। সেগুলো আর বের হবেনা। সেগুলো সাথে নিয়েই মরতে হবে। আর থেরাপি দিয়েই চলতে হয় এখন।

তার শরীরে কতগুলো স্প্রিন্টার ঢুকেছিলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্রেনেটের অন্তত ৭টি স্প্রিন্টার নিয়ে এখন বেঁচে আছি। আর আমার শরীর থেকে অসংখ্য স্প্রিন্টার বের করা হয়েছে। আর নিজে থেকেও অনেকগুলা বের হইছে। মোট স্প্রিন্টারের হিসেব নাই।নেত্রী সাহায্য করছেন, এ জন্য হয়তো বেচে আছি।

তিনি বলেন, সেদিনে সে স্মৃতি মনে হলে ভয়ে সারারাত আর ঘুমাতে পারেন না তিনি। এখনো সেই ভয়াবহ স্মৃতির কথা মনে হলে ঘুমাতে পারি না আর সব স্মৃতিগুলি একেপর এক মনে পরতে থাকে। এমন বিকট শব্দ হয়েছিল। আর শরীর থেকে জর জর রক্ত পরতেছিলো। এখনো মনে হয় সেই বিভিশিকা দিনটা যেন আর কারো যেন না আসে। আর কেউ যেন এমন কাজ না করে।

সরকারীভাবে কেমন সহযোগীতা পেয়েছেন বা পাচ্ছেন তিনি, তবে সরকার তার চিকিৎসার ব্যয় বহন করছেন। দিয়েছেন আর্থিক সহায়তাও। এজন্য তিনি খুশি। আমরা এখন খুবই ভালোভাবে দিনকাটাচ্ছি।

ব্যক্তিগত রাজনৈতিক জীবনে নিয়ে বলেন, বর্তমানে নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা দক্ষিণ মহিলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতির দায়িত্বে আছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় sweb.net