1. nerobtuner@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  2. omarfarukbd12@gmail.com : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
  3. info@shamolbangla.net : শ্যামল বাংলা : শ্যামল বাংলা
বজ্রপাতের ঝুকিতে বেশি কৃষক জলবায়ু পরিবর্তন - দৈনিক শ্যামল বাংলা
শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
চট্টগ্রামে সমাজবিরোধী অপতৎপরতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মাগুরায় ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চোর আহত মাগুরায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন  চন্দনাইশকে সবুজায়ন করতে পৃথক পৃথক বৃক্ষরোপন ও চারা বিতরণ করা হয়  চন্দনাইশে গাউসিয়া কমিটির উদ্যোগে জশনে জুলুছে ঈদ-এ মিলাদুন্নবী (সাঃ)‘র র‌্যালি ইউনাইটেড সোস্যাল নেটওয়ার্ক-ইউএসএন-এর ২০২৬–২৭ সেবাবর্ষের সিলেট বিভাগীয় কমিটি ঘোষণা ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক স্কুল বিজ্ঞান উৎসব আনোয়ারায় বিধবাকে টিন উপহার দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী এডভোকেট নুরুল কবির ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ৬৪ রানে থামালেন স্টার্ক নতুন ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন

বজ্রপাতের ঝুকিতে বেশি কৃষক জলবায়ু পরিবর্তন

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২০
  • ৪১৯ বার

মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার | বাংলাদেশে বজ্রপাতের বেশি ঝুকিতে রয়েছে কৃষক। কারণ তারা ফসল ফলাতে মাঠে কাজ করে। আর একারণেই বজ্রপাতে তাদের মৃত্যুর হার বেশি। অন্যদিকে গাছপালা কমে যাওয়া এবং পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে বজ্রপাতের ঘটনা । আর বাংলাদেশে এ দুর্যোগে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা। কারণ তার মাঠে কাজ করে। এই সময় বজ্রপাতে কৃষকের প্রাণহানিই ঘটে সবচেয়ে বেশি। আর এক মাস পরই মাঠে কৃষকের ব্যস্ততা বাড়বে, তখনই শুরু হবে বজ্রপাতও।
বজ্রপাত থেকে জীবন বাঁচাতে ‘পোর্টেবল লাইটনিং প্রোটেকশন সেইফ জোন’ আবিষ্কার করেছে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি)। এটা মূলত খোলা আকাশের নিচে বজ্রপাত থেকে কৃষকের নিরাপত্তার জন্য তৈরি করা হয়েছে। মাত্র ১০ হাজার টাকা খরচ করেই একজন কৃষক বজ্রপাতের আগুণ থেকে রক্ষা পেতে পারেন।

কৃষি মাঠে বজ্রপাত থেকে সুরক্ষার গুরুত্ব বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি। কারণ মৃত্যুর সংখ্যা অনুযায়ী ৯৭ দশমিক ৫২ শতাংশ সাধারণ মানুষ বা গ্রাম গঞ্জের কৃষক শ্রমিক, জেলে শ্রেণি। তার মাধ্যে কৃষি কাজে সম্পৃক্তদের নিহতের হার ৭৪ শতাংশ। ১০ বছরে উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে ধান কাটা, রোপন করা ও কৃষি সংযুক্ত কাজে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে একই সঙ্গে চারজন। মাঠে কাজ করার সময় কাছাকাছি কোনো নিরাপদ স্থাপনা না থাকায় বজ্রপাতের সময় কৃষক অরক্ষিত হয়ে যান। হাওর অঞ্চলের কৃষকরা আরও বেশি অসহায়। নিরাপদ স্থান পেতে কৃষকের তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় লাগে। এসব কৃষককে সুরক্ষা দেবে ‘সেইফ জোন’।

আইডিইবি সূত্র জানায়, পোর্টেবল লাইটনিং প্রোটেকশন সেইফ জোনে মাত্র ১০ হাজার টাকায় ১০০ জন কৃষকের জীবন রক্ষা পাবে। মূলত একটি বাঁশের মাথায় এয়ার টার্মিনাল থাকবে। মাটির সঙ্গে সংযুক্ত করে ধাতব বস্তু দিয়ে মাটিতে আর্থিংয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে হয়ে থাকে। এই পদ্ধতিতে এয়ার টার্মিনাল থেকে নিচের দিকে ৪৫ ডিগ্রি কোণে একটি প্রটেকশন জোন তৈরি হয়। এয়ার টার্মিনাল সাধারণত স্থাপনার ওপরে সবচেয়ে বেশি উচ্চতায় বসানো হয়। প্রকল্পের আওতায় সমস্ত ব্যবস্থা করবে আইডিইবি। শুধু ব্যবহারকারীরা এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করবেন।

জানা গেছে, ১৯৮৮ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বজ্রপাতে ৬ হাজার ৭৪২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত ৫ বছরেই বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৬৭৮ জন। গাছপালা কম থাকায় সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সিলেট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চট্টগ্রাম, নওগাঁ, দিনাজপুর ও সিরাজগঞ্জে বজ্রপাতের হার বেশি, নিহতের সংখ্যাও বেশি। ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

আইডিইবি সূত্র জানায়, বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে ২০১৮ সালেই বজ্রপাতে ৪৪৯ জন নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম নিহত হয়েছেন ২০১৯ সালে (১৯৬ জন)। ২০১৫ সালে ২৭৪, ২০১৬ সালে ৩৮৭ ও ২০১৭ সালে নিহত হয়েছেন ৩৭২ জন।

এপ্রিল, মে, জুন ও জুলাই মাসে বজ্রপাতে নিহতের সংখ্যা বেশি। বিগত পাঁচ বছরে এপ্রিলে ১৮২, মে মাসে ৫৪৯, জুনে ২৮০ ও জুলাই মাসে ১৭৯ জন নিহত হয়েছেন। তবে মৃত্যুহার কম জানুয়ারি নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে।

আইডিইবি সূত্র জানায়, দক্ষিণ বঙ্গপসাগর থেকে সক্রিয় মৌসুমী বায়ু প্রবাহ, উত্তরে হিমালয়ের পাদদেশে পুঞ্জীভূত মেঘ, বায়ু দূষণ, মোবাইল টাওয়ার হতে উৎপন্ন অতি মাত্রার ম্যাগনেটিক ফিল্ড ওয়েব, বন জঙ্গল উজাড় ও পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে বজ্রপাত বাড়ছে।

বজ্রপাতে নিহত হওয়া প্রসঙ্গে আইডিইবি রিসার্চ ফেলো প্রকৌশলী মো. মনির হোসেন বার্তাবাহককে জানান, ‘পৃথিবীতে তাপমাত্রা বাড়ছে। বজ্রপাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। বাংলাদেশে বাৎসরিক প্রতি বর্গ কিলোমিটারে বজ্রপাতের প্রবণতার হার ১৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। হাওর অঞ্চলে বজ্রপাতের হার বেশি। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন কৃষকরা। হাওর অঞ্চলে বজ্রপাতে থেকে সুরক্ষা দিতে পোর্টেবল লাইটিং প্রোটেকশন সেইফ জোন ব্যবহার করা যেতে পারে। এটা মাঠের মাঝখানে থাকবে বজ্রপাতের আশঙ্কা দেখা দিলেই কৃষকেরা এই জোনে প্রবেশ করবেন। মাঠের আয়তন অনুযায়ী এটা স্থাপন করা যেতে পারে। একটা সেইফ জোনে ১০০ জনের জীবন রক্ষা পাবে। কৃষকের সুবিধা অনুযায়ী এগুলো স্থাপন করা যাবে। প্রকল্পের আওতায় কম খরচে বজ্রপাত থেকে সেইফ জোন জীবন রক্ষা করতে পারবে। মাঠে সেইফ জোন থাকলে চাষিরা মাঠেও মনবল নিয়ে কাজ করতে পারবেন।’

বিশেষ প্রতিবেদকঃ শ্যামল বাংলা | প্রাবন্ধিক ও গবেষক |

নিউজটি শেয়ার করুন..

মন্তব্য করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2025 sweb.net
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় sweb.net